লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে দলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ না করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে ওই ২০ জন সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি’ (এনসিপিআই)-তে মিশে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন। অভিষেকের অভিযোগ, মুখে অন্য দলের কথা বললেও সংসদের খাতায়-কলমে এবং বক্তৃতার সময় তাঁদের নামের পাশে এখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) লেখা থাকছে। এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না বলে দাবি তাঁর।
গত ১৯ জুন লোকসভার সদস্য নীতির ৬ নম্বর ধারা উল্লেখ করে ওই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে পিটিশন দিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও স্পিকার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেননি কিংবা শুনানির ব্যবস্থাও নেননি। অথচ দলবদলে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া সত্ত্বেও লোকসভায় ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আসন পরিবর্তন করে সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। উল্টো দিকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের অনুগত সাংসদদের।
আসন বদলের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পূর্বের আসন বণ্টন পুনর্বহালের দাবি তুলেছিলেন অভিষেক। দফায় দফায় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও কোনও সমাধান সূত্র না মেলায় শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। এখন সুপ্রিম কোর্ট এই সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কে কী নির্দেশ দেয়, সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
















