লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তুলধোনা করলেন তৃণমূল (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার, লোকসভায় (Lok Sabha) বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলকে সমর্থন জানালেও চাঁছাছোলা ভাষায় কেন্দ্রের সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই- বিলটিকে সমর্থন করছি বলেই সরকার যেন এমনটা আশা না করে যে, যারা প্রথমে আগুন লাগিয়ে দেয় আর পরে এক বালতি জল নিয়ে হাজির হয়, আমরা তাদেরই প্রশংসা করব। প্রতিটি শিক্ষার্থীরই এই নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে যে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। প্রতিটি অভিভাবকেরই এই আস্থা থাকার অধিকার রয়েছে যে কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও সততার মাধ্যমেই সাফল্য নির্ধারিত হবে- টাকা, প্রভাব বা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে নয়। তবে এই বিলের প্রতি সমর্থন কোনোভাবেই জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।“
নিজেরাই আগুন লাগিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছে: বিলকে সমর্থন করেও মোদি সরকারকে তুলোধনা অভিষেকের
Sponsored

বিলের পক্ষে সায় দিয়েও অভিষেক বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁরা এই সংশোধনীকে সমর্থন করছেন কারণ শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সুরক্ষার যোগ্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সরকারের বিগত ১২ বছরের প্রশাসনিক অক্ষমতাকে ধামাচাপা দেওয়া হবে। তৃণমূল সাংসদ বলেন, "বিজেপি সরকারের (BJP Governor) মনে রাখা উচিত যে প্রতিটি প্রজন্ম তার নিজস্ব রিপোর্ট কার্ড লেখে। মোদি সরকারের জন্য সেই রিপোর্ট কার্ডে লেখা থাকবে: 'F', অর্থাৎ ফেল মানে ব্যর্থ। মোদি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।"
অভিষেকের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে নিট (NEET), ইউজিসি-নেট (UGC-NET), এসএসসির মতো একাধিক পরীক্ষায় বারবার জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও দোষীদের শাস্তির হার প্রায় শূন্য। সিবিআই (CBI) বা ইডি (ED) তদন্তের নামে কেবল সময় নষ্ট করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। মোদি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "এই সরকার যখনই শাসনব্যবস্থায় ব্যর্থ হয়, তারা আইন বদলে ফেলে। যখনই প্রশাসন ভেঙে পড়ে, তারা শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর যখনই কোনও প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়, তারা নতুন কোনও কমিটি গঠনের ঘোষণা করে। কিন্তু শুধুমাত্র সংবাদ শিরোনাম দিয়ে তো আর দেশ চালানো যায় না। শাসনের প্রকৃত বিচার হয় কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে। আর ফলাফলটা কী? একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, একের পর এক পরীক্ষা বাতিল; এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিষন্নতার শিকার হচ্ছে। অভিভাবকরা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন এবং স্বপ্নগুলি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সরকার নিজেদের 'নতুন ভারতের সরকার' বলে দাবি করে কিন্তু আজকের তরুণ প্রজন্ম শুধুমাত্র একটিই প্রশ্ন করছে- এটাই যদি 'নতুন ভারত' হয়, তবে কেন আমাদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলো এমন নিয়মিতভাবে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে? আমি ঠিক এই প্রশ্নটিই করতে চাই।" প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলিকে নিছক দুর্ঘটনা না বলে এটিকে একটি সুসংগঠিত 'সিস্টেম' বা ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে বলে তীব্র আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অভিষেকের প্রশ্ন, "সরকার এখন বিল আনছে। তাতে হয়তো দোষীদের শাস্তি হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসে পড়ুয়ারা যে মানসিক ধাক্কা খেয়েছে সেটা ঠিক হবে কী করে, যে স্বপ্নগুলো ভেঙে গিয়েছে, সেগুলি ঠিক করবেন কী করে?" কেন্দ্রের উদ্দেশে অভিষেকের প্রশ্ন, 'কেন প্রশ্নফাঁস রোখা গেল না?'
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে, সেটা নিয়েও সরব অভিষেক। বলেন, "সরকার এই সময়কে অমৃতকাল বলছে, আসলে এটা উৎকণ্ঠা কাল। সরকার কী করল না করল তাতে একটা সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ধারিত হয় না। সেটা নির্ধারিত হয় সরকার কেমন প্রজন্ম তৈরি করছে সেটার উপর।" তিনি প্রশ্ন তুললেন, "ছাত্রদের কথা না শুনে পেলেট গানের গুলি চালানো হল কেন? সরকার কেন প্রশ্নফাঁস রুখতে পারে না।"
অভিষেকের অভিযোগ, "এখন প্রশ্নফাঁস দুর্ঘটনা নয়, বরং নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা একটা প্যাটার্ন। কেন্দ্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও কাটেনি। এই সরকার ভবিষ্যতের কথা বলে। কিন্তু অন্যায়ের ভিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণ হয় না।"
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













