তেলেঙ্গানার (Telengana) আদিলাবাদের রাজীব গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS)-এ গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আর সেই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল দুই সদ্যোজাত শিশুর (Child Death)। সোমবার গভীর রাতে হাসপাতালের স্পেশাল নিউনেটাল কেয়ার ইউনিট (SNCU)-তে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই ইউনিটে থাকা একটি এয়ার কন্ডিশনারে (AC) বিস্ফোরণের পরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।\

আরও পড়ুন: তোলাবাজি মামলায় ভবানী ভবনে হাজিরা কীর্তির

হাসপাতাল সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের সময় SNCU-তে প্রায় ৩০ জন সদ্যোজাত চিকিৎসাধীন ছিল। আচমকা ইউনিট থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শিশুবিভাগ ও সংলগ্ন কয়েকটি এলাকা। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসক ও কর্মীরা। বিদ্যুৎচালিত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শিশুদের একে একে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। জানালার কাচ ভেঙেও উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিনও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

উদ্ধারের সময় দু’টি শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ দিনের সদ্যোজাত ছিল বলে খবর। গুরুতর অসুস্থ কয়েকটি শিশুকে-সহ বাকিদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপের জেরেই আগুন SNCU-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে দমকলের অনুমান, এসির শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন জেলা শাসক রাজর্ষি শাহ এবং পুলিশ সুপার অখিল মহাজন। তাঁরা উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। হাসপাতালের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী (Telengana Chief Minister) রেবন্ত রেড্ডি (Revanth Reddy)। বাকি শিশুদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিশুদের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।