উলটপুরান! বুধবার রাজ্যসভায় (Raj Sabha) পাশ হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার লোকসভাতেও (Lok Sabha) পাশ হয়ে গেল জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ (National Honour (Amendment) Bill, 2026)। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ’র সমান মর্যাদা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কেও। উভয় গানের অপমানেই কঠিনতম শাস্তির বিধান রয়েছে বিলে। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার জন্য বিলটি এবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। 

‘নিট’ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরগরম সংসদের (Parliament) বাদল অধিবেশন। বৃহস্পতিবারও দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় দুই কক্ষের অধিবেশন। একসময় বিরোধীরা লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। এই গোলমালের মধ্যেই এদিন জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাশ হয়ে যায় সংসদের নিম্নকক্ষে। 

এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই রাজ্যসভায় বলেছিলেন, "‘বন্দে মাতরম’ বিলটি শুধুমাত্র কোনও সাধারণ বিল নয়; এটি ভারতের আত্মা, জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।"

এই বিলটির মাধ্যমে 'জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১'-এর ৩ নম্বর ধারাটি সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখনকার আইন অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করলে কিংবা তা গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে ব্যাঘাত ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে 'বন্দে মাতরম'-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধাগ্রস্ত করেন বা এটি গাওয়া হচ্ছে এমন কোনও সমাবেশে ব্যাঘাত ঘটান, তবে তাঁকেও একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এবার ‘জনগণমন’-র সমান আইনি মর্যাদা পেতে চলেছে ‘বন্দে মাতরম্‌’। উল্লেখ্য যে, এই আইনে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি এবং যাঁরা এটি না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের কোনো শাস্তিও দেওয়া হবে না।