চলতি বছরের ২৭ মে রাজস্থান হাইকোর্ট নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় স্বঘোষিত 'ধর্মগুরু' আশারাম বাপুর (Asaram babu) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছিল। যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে আত্মসমর্পণের জন্য আদালত তাঁকে নির্দেশ দেওয়ায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু এবার ২০১৩ সালে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আশারামকে ২০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর করেছে রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে যে, তাঁর প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে প্রমাণ করতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আশারামের ২০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর
Sponsored

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জিত পুরোহিতের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ৮৫ বছর বয়সী আশারামকে স্বস্তি দিয়ে জানায় তাঁর কারাবাসের মেয়াদ এবং এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তির সময় তাঁর আচরণ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশারাম ইতিমধ্যে ১৩ বছর, এক মাস ও ২৪ দিন সংশোধনাগারে ছিলেন। এর আগে তাঁকে বেশ কয়েকবার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময়গুলোতে জামিনের শর্ত লঙ্ঘন, আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা, সাক্ষীদের ভয় দেখানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ঘটনার নজির পাওয়া যায়নি। ৩ আগস্ট আদালত তাঁকে প্রথমবার নিয়মিত প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয় এবং নির্দেশ দেয় যে, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও ২৫ হাজার টাকার দুজন সচ্ছল ব্যক্তির দাখিল সাপেক্ষে তাঁকে ২০ দিনের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।
শুনানি চলাকালীন আদালতকে জানানো হয় যোধপুরের জেলা কালেক্টর ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি আগেই আশারামের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। পুলিশ তাঁর মুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, প্যারোলে মুক্তি পেলে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া রাজ্য সরকার ‘রাজস্থান প্রিজনার্স রিলিজ অন প্যারোল রুলস, ১৯৫৮’-এর ১৪(এ) বিধির উল্লেখ করে যুক্তি দেয় যে, রাজস্থানের বাইরে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং গুজরাটের গান্ধীনগরের একটি আদালত তাঁকে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করেছে। সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় যে আশারাম চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁকে প্যারোলের জন্য উপযুক্ত বলে ঘোষণা করেননি। এছাড়া সরকার এ-ও জানায় যে তাঁর মুক্তি নির্যাতিতার পরিবারের জন্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য ও পুলিশের উত্থাপিত আশঙ্কাগুলো নিছক অনুমাননির্ভর এবং এগুলোর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, রাজস্থানের আদালতের দেওয়া সাজার প্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আশারামের অধিকার সম্পূর্ণভাবে ‘রাজস্থান প্রিজনার্স রিলিজ অন প্যারোল রুলস’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। অন্যান্য রাজ্যে চলা আইনি কার্যক্রম বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়গুলো সেখানকার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ীই বিবেচিত হবে এবং শুধুমাত্র সেগুলোর ভিত্তিতে বর্তমান মামলায় প্যারোল প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। আশারামের দাবির যথার্থতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মতামত না দিয়েই আদালত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে (এএজি) নির্দেশ দিয়েছে যে, সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬০ বছর নির্ধারণের ভিত্তিটি যেন ব্যাখ্যা করা হয়। পাশাপাশি আদালত এএজি-কে এমন কোনো নজির বা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে ওই বয়সসীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও কোনো বন্দিকে ‘ওপেন এয়ার ক্যাম্প’-এ স্থানান্তর করা হয়েছিল। মামলাটি পরবর্তী বিবেচনার জন্য ১৭ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













