এতদিনে ঘুম ভাঙল মোদি সরকারের (Modi Government)? মনে পড়ল অসমে বন্যাদুর্গত (Assam flood) লক্ষ লক্ষ সহায়সম্বলহীন মানুষদের কথা? কী করছে রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী? বুধবার অসমের বন্যা-পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই প্রশ্নের মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল। কোনওরকম রাখঢাক না করেই আশ্রয়হীন গ্রামবাসীরা তুলে ধরলেন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা এবং অপদার্থতার কথা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেন রাজ্যের অন্যতম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শিবসাগর জেলার নেপালিখুটি। ট্রাক্টরে চেপে জল ডুবে যাওয়া গ্রামে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বন্যাদুর্গত গ্রামবাসীরা যখন রাজ্যের বিরুদ্ধে ফেটে পড়েছেন ক্ষোভে, তখন কেন্দ্রের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেন নাড্ডা।

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যের বন্যাপরিস্থিতির উন্নতির মাঝেও নতুন করে অবনতি হয়েছে বেশ কিছু জেলায়। অসমের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে গোলাঘাট জেলার নুমালিগড়ে ধানসিড়ি নদীতে বন্যা-পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলো নতুন করে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। মৃতের সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়েছে। ৫টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় দেড়লক্ষ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় শিবসাগর এবং গোলাঘাট জেলায় একজন করে আরও মোট দুজনের মৃত্যু হয়েছে।সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিবসাগরে। রাজ্যে যেখানে দুর্গত মানুষের সংখ্যাটা ছাড়িয়ে গেছে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১০০, সেখানে শুধু শিবসাগরেই ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এরপরেই চরাইদেও এবং জোড়হাট। দুর্গতর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩১ হাজার এবং ২০ হাজার।