মাথা নোয়ালেন! হায়দরাবাদের ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ’ (NALSAR) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়াদের একাংশ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিসিআই চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। নির্দেশ দিয়েছিলেন, নালসার-এর ২০২৬ সালের কোনও স্নাতক পড়ুয়া পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না। এরপরেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। এই নিয়ে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। এরপরেই বার কাউন্সিলের তরফে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, এবার আইনের পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)-র চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র, জানিয়ে দিলেন, ‘অহংকারের বিষয় নয়’। 

স্বাধীনতা দিবসের দিন পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে একটি  চিঠি লেখেন বিসিআই প্রধান। জানান, তাঁর বক্তব্য বা চিঠির মাধ্যমে আইন পড়ুয়াদের মনে আঘাত লেগে থাকলে তিনি তার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। চিঠিতে বার্তা দেন, ‘আমার কোনও বক্তব্য যদি আমাদের আইন পড়ুয়াদের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তাহলে তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। এটা বলতে কোনও দ্বিধা থাকা উচিত নয় যে ক্ষমা চাওয়া কোনও অহংকারের বিষয় নয়। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের অনুভূতি এবং উদ্বেগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রসঙ্গত, জেন জি'দের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, তোলপাড় গোটা দেশ। এরপর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে অতিথি করে আনা হলে পরিস্থিতি অনুকূল নাও হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে ই-মেল করা হয়। বিসিআই তারপর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায় নালসারের ২০২৬ ব্যাচের সমস্ত পড়ুয়ার আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট স্থগিত রাখা হচ্ছে ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রচারে কারা জড়িত, সেটা চিহ্নিত করে রিপোর্ট তলব করা হয়। তবে অবশেষে BCI চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্রর নিজের ভুল বুঝে পড়ুয়াদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।