নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। সেই আবহেই জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Leader of the Opposition in the Lok Sabha, Rahul Gandhi), আর তাঁকে গ্রেফতারের দাবি তুলে আরও এক ধাপ সুর চড়ালেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। বুধবার এক ভিডিয়ো বার্তায় কমিশনের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আপনারা যা করছেন তা ভুল। এটা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, দেশের বিরুদ্ধে কাজ।’’ এরপরই তাঁর বার্তা, ‘‘সময় আসবে, আমরা আপনাদের ধরব। তখন আপনারা বাঁচতে পারবেন না।’’

রাহুলের এই আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR নিয়ে তাঁর পুরনো ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকায় কারচুপি হলে তার প্রভাব শুধু নির্বাচনের ফলাফলে পড়ে না, আঘাত আসে দেশের সংবিধানের উপরেও। ভিডিয়োটি প্রকাশ করে বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা।

এই সব বিতর্কের সূত্রপাত কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে মোট ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। SIR, ভোটার তালিকায় নাম যোগ-বিয়োগ এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়েও মতপার্থক্য হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি। একই দিনে চারটি আপত্তি নথিভুক্ত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব, বিরোধীদের চাপের মুখে অভিযোগ উড়িয়ে বিবৃতি কমিশনের

রিপোর্টটি সামনে আসার পর কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। তাঁর প্রশ্ন, দুই নির্বাচন কমিশনার কোনও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে থাকলে সেই সিদ্ধান্ত কী ভাবে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিণত হল? SIR-সহ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে একই অভিযোগকে সামনে রেখে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একক ভাবে কমিশন পরিচালনা করছেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের দাবি জানানোর পাশাপাশি দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ে গত কয়েক বছরে হওয়া নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন,  ‘নির্বাচন কমিশন কোনও এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান নয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ‘ফার্স্ট অ্যামং ইক্যুয়ালস’ বা সমানদের মধ্যে প্রথম। কিন্তু বাকি কমিশনারদের একাধিক আপত্তি থেকেই বোঝা যায় যে কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন নির্দেশ ও সার্কুলার জারি করা হয়েছিল।’