তামিলনাড়ুর বিধায়কদের (Tamil Nadu MLA) জন্য একগুচ্ছ নতুন সুবিধার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় (Chief Minister Thalapathy Vijay)। বুধবার বিধানসভায় তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি বিধায়ককে নতুন গাড়ি দেওয়া হবে। শুধু গাড়ির ব্যবস্থা করেই থামছে না সরকার। তার সঙ্গে চালকের বেতন এবং বিধায়কের দফতরের কর্মীর পারিশ্রমিকও সরকারি কোষাগার থেকেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রত্যেক বিধায়কের গাড়ির চালকের জন্য মাসে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে। বিধায়কের অফিসের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে থাকা কর্মীর জন্য বরাদ্দ থাকবে আরও ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বেতন ও ভাতার বাইরে বিধায়কের জন্য মাসিক এক লক্ষ টাকার অতিরিক্ত সরকারি সুবিধা তৈরি হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে বিধায়কদের বর্তমান বেতন-ভাতার অঙ্কও অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্যের তুলনায় বেশি হওয়ায় নতুন ঘোষণাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি বিরোধী শিবিরকে। বরং বিধায়কদের কাজের পরিধির কথা তুলে ধরে সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বিরোধী দলের কয়েকজন বিধায়ক। তাঁদের বক্তব্য, বিধায়কদের দায়িত্ব বিধানসভায় উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজেদের বিধানসভা এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং স্থানীয় সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেওয়াও তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি ও সহায়ক কর্মী থাকলে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের যুক্তি, জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত এলাকায় যেতে হয় এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে হয়। সেই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই নতুন গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই বিধায়কদের জন্য সরকারের এই বড়সড় সুবিধা ঘোষণাকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ভিসিকের বিধায়ক জ্যোতিমণির (Jyotimoni) বক্তব্য ছিল, “অনেক বিধায়ক শুধু গাড়ির অভাবে নিজেদের এলাকায় নিয়মিত যেতে পারেন না। বিধায়কদের কাজ তো শুধু বিধানসভায় সীমাবদ্ধ নয়। বিধানসভাতেও যেতে হয়।”