দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে কষা হয়েছিল বড়সড় চক্রান্তের ছক। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের পোশাকে বিজেপি ও আরএসএস কর্মীদের নামিয়ে ছাত্র আন্দোলন দমন করা হয়েছিল। পুলিশ নয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের উপর গুন্ডামি চালিয়েছিল পুলিশ ও বাহিনীর পোশাকে থাকা বিজেপি-আরএসএস কর্মীরাই। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি এবং ছাত্রদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় তারাই। আর বদনাম হয় পুলিশের। এবার দিল্লি পুলিশের অন্দরেই উঠেছে এই আওয়াজ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সিস্টেমের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন একশ্রেণির পুলিশ কর্মী। বিজেপির চক্রান্তের পর্দাফাঁস করে ছেড়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি নিট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জুলুমবাজির ঘটনায় দিল্লি পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের লক্ষ্য করে পেলেট গান ও বৈদ্যুতিক লাঠিচার্জ পর্যন্ত করা হয়েছে। কার নির্দেশে এই অমানবিক অত্যাচার সেই প্রশ্ন বারবার তুলেছে বিরোধীরা। এখন পুলিশের একাংশের কথায় উঠে এসেছে আসল সত্য। কারা রয়েছেন এই গুন্ডামির নেপথ্যে। রাখঢাক না রেখেই পুলিশ কর্মীরা জানিয়েছেন, বিজেপির এখন সিস্টেম হয়ে গিয়েছে পুলিশ ও বাহিনীর পোশাকে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে সবক শেখানো। শুধু নিট আন্দোলনই নয়, দেশজুড়ে চলা বিভিন্ন আন্দোলন প্রশমিত করতে বিজেপি ও আরএসএস এখন এই পন্থা নিয়েছে এ প্রসঙ্গেই বিরোধীদের অভিযোগ, তবে কি বিভিন্ন রাজ্যে ভোটে জিততে বিজেপি বাহিনী ও পুলিশের পোশাকে নিজেদের কর্মীদের ব্যবহার করছে? তা অমূলক নয়। তা না হলে পুলিশের অন্দরেই আওয়াজ উঠবে কেন, এই সিস্টেমের পরিবর্তন করা দরকার। বিজেপি বিভিন্ন রাজ্য দখল করতে এবং বিরোধী আওয়াজকে দমিয়ে রাখতে নির্মমতার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে যে ছাত্র আন্দোলন চলছিল, তা দমন করতে বিজেপি ও আরএসএস পেশি শক্তির প্রয়োগ ঘটিয়েছে। পুলিশ ও বাহিনীর সঙ্গে তাদের পোশাকে অন্তত ৫০ শতাংশ বিজেপি ও আরএসএস কর্মী ছিল। যারা আন্দোলনকারীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। পুলিশের একাংশের মুখ থেকে বিজেপির নোংরা পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। জাতীয় রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের মিছিল ও বিক্ষোভ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় বিভিন্ন রাজ্যে। বাংলাতেও ছাত্র বিক্ষোভকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানেও সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বাইরের লোক ও বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের প্রবেশ করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।