দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। বিশেষত, মোদি জমানায় বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণ নিয়ে তা শোধ না করার প্রবণতা বেড়েছে। এমনকী ঋণশোধ না করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিল্পদ্যোগীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আকছার ঘটছে। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অব বরোদা গত ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ছয় বছরে ১০০ কোটি টাকা ও তার বেশি বকেয়া থাকা বড় ঋণগ্রহীতাদের মোট ৩৫,৭১৫ কোটি টাকার ঋণ 'রাইট অফ' বা খাতা কলমে মকুব করেছে। অথচ এই সময়কালে এই সমস্ত হিসাব থেকে পুনরুদ্ধারের পরিমাণ ছিল মোট মকুব অর্থের ২৮ শতাংশেরও কম, অর্থাৎ মাত্র ৯,৯৪৭ কোটি টাকা। তবে আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও ব্যাংকিং সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অজুহাত তুলে আরটিআই আইনের আওতায় বিশেষ ছাড়ের কথা বলে সেই সব বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
৬ বছরে ৩৫ হাজার কোটির ঋণ মকুব ব্যাঙ্ক অফ বরোদার, উদ্ধার হল কত
Sponsored

পুণের নাগরিক অধিকার কর্মী বিবেক ভেলঙ্করের দায়ের করা তথ্য জানার অধিকার আইনের আবেদনের জবাবে ব্যাংক অব বরোদা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ব্যাংকের ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের জবাবে বলা হয়েছে, বড় অঙ্কের এই ঋণ টেকনিক্যালি মকুব করার পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ মেটাতে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘হেয়ারকাট’ বা বাধ্য হয়ে মকুব করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৮১৭ কোটি টাকা। ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ টেকনিক্যালি রাইট অফ করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১১,৯১৬ কোটি টাকা এবং ১১,২৬১ কোটি টাকা। তথ্য অধিকার কর্মী বিবেক ভেলঙ্কর এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে ছোট ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ টাকা বকেয়া থাকলেও ব্যাংকগুলো খবরের কাগজে ছবিসহ নাম প্রকাশ করে এবং বাড়ি-সম্পত্তি নিলাম করে আপত্তিকরভাবে তাদের মানহানি করে; অন্যদিকে শত শত বা হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের নাম আড়াল করে নরম মনোভাব দেখানো হয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের এই বেপরোয়া ঋণ অনুমোদন এবং অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থতার জন্য কোনও জবাবদিহিতা থাকে না বলেও তিনি সরব হন। ব্যাংক অব বরোদা ঋণগ্রহীতাদের নাম গোপন রাখতে আরটিআই আইনের ৮(১)(জে), ৮(১)(ডি) এবং ৮(১)(ই) ধারা উদ্ধৃত করেছে, যা গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও বাণিজ্যিক স্বার্থের অজুহাত উপস্থাপন করে।
ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ অর্থ কারিগরিভাবে মকুব করা হলেও এবং ট্রাইব্যুনালে হাজার হাজার কোটি টাকা ছাঁটাই বা হেয়ারকাট মেনে নেওয়া হলেও ঠিক কাদের বা কোন সংস্থাগুলোর এই ঋণ মকুব করা হয়েছে তা পাবলিক ডোমেইনের বাইরে অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored












