বড়সড় ধাক্কা ‘তেহলকা’-র প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালের(Tarun Tejpal)! ২০১৩ সালে তাঁরই এক কনিষ্ঠ সহকর্মীর দায়ের করা ধর্ষণের মামলায় বৃহস্পতিবার বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। হাইকোর্ট ২০২১ সালে আদালতের তেজপালকে বেকসুর খালাস দেওয়ার রায়টি খারিজ করে দিয়েছে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গোয়া সরকার পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়।
বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের বিস্তারিত যুক্তি শোনার পর বিচারপতি ড. নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ার একটি হোটেলের লিফ্টে এক সহকর্মীকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে গোয়ার একটি দায়রা আদালত তরুণ তেজপালকে এই মামলা থেকে খালাস করে দিয়েছিল। অবশেষে ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট বম্বে হাইকোর্ট সেই খালাসের রায় বাতিল করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁর সাজা ঘোষণার কথা।
রাজ্য সরকারের করা আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা; অন্যদিকে তেজপালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রবীণ আইনজীবী আবাদ পন্ডা। বিচারপতি ড. নীলা গোখলে এবং অমিত জামসান্দেকরের ডিভিশন বেঞ্চ তেজপালকে একাধিক ধারায় এদিন দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করে ধর্ষণ (৩৭৬(২)(এফ) এবং ৩৭৬(২)(কে)), যৌন হেনস্থা (৩৫৪এ) এবং শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগের (৩৫৪বি) মতো বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ২০২১ সালে গোয়ার দায়রা আদালতের দেওয়া মুক্তির নির্দেশ সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রভাবশালী সাংবাদিক ৬২ বছরের তেজপাল। বিচারকদের কাছে শাস্তির মেয়াদ কমানোর আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, এই মামলায় তিনি নিছকই ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর স্ত্রী আছেন, এর চেয়ে বেশি কিছু তাঁর বলার নেই। তাঁর প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর আইনজীবী আবাদ পন্ডা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার জন্য এই নির্দেশের ওপর আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানান। তিনি আদালতকে মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ছ’মাস জেল খেটেছেন। তেজপালের ক্ষমার আর্জির তীব্র বিরোধিতা করেন তুষার মেহতা। তিনি তেজপালকে নির্যাতিতার কাছে “পিতার সমতুল্য” বলে উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মেহতা সাফ বলেন, “নির্যাতিতা বাধা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পরপর দু’দিন এই কাজ করেছেন। নির্যাতিতা তাঁর নিজের মেয়ের বয়সী হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই জঘন্য অপরাধ করেছেন।”
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে দায়রা আদালতে এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেয়। নিম্ন আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, যৌন হেনস্থার শিকার হলে একজন নির্যাতিতার যে ধরনের “আচরণ” করার কথা, অভিযোগকারিণীর ক্ষেত্রে সেটা দেখা যায়নি। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল গোয়া সরকার। অবশেষে বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হলেন তেজপাল।
















