বিয়ের চেনা ছকটা তাঁদের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সমাজ কী বলবে, পরিবার কি বলবে সেই প্রশ্নের চেয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিয়েছেন পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেটের (Pimpri-Chinchwad Police Commissionerate) দুই মহিলা কনস্টেবল। দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে এবার সামাজিক রীতিতে নতুন পরিচয় দিতে চলেছেন তাঁরা। আগামী ৩০ অগাস্ট আলান্দিতে (Alandi) বৈদিক আচার মেনে বিয়ের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুজনে। এই খবর সামনে আসতেই পুলিশ মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিয়ে বাতিল করেছেন যুগল।
কর্মসূত্রেই তাঁদের আলাপ। পুলিশ প্রশিক্ষণ শেষ করার পর দুজনের কর্মজীবন শুরু হলেও পরে একই থানায় দায়িত্ব পাওয়ার সুবাদে নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়। প্রায় তিন বছর ধরে একই কর্মপরিবেশে থাকার ফলে পরস্পরের প্রতি নির্ভরতা ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একসময় সেই সম্পর্ক ব্যক্তিগত জীবনেও জায়গা করে নেয়। পরে তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন বিষয়টি জানলেও প্রকাশ্যে আসে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনার পর।
পরিবারের তরফে আপত্তি এলেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি দুই মহিলা কনস্টেবল (Two female constables)। এক জনের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাঁদের রয়েছে। ফলে তাঁদের সম্পর্ক বা বিয়ের সিদ্ধান্তে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবে না।
তবে এখন বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। ৩০ অগাস্টের প্রস্তাবিত বিয়ে আর হচ্ছে না। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। পরিবারের চাপের কারণে কি তাঁরা পিছিয়ে গেলেন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা স্পষ্ট নয়। ফলে যে বিয়েকে ঘিরে এত আলোচনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
















