উস্কোখুস্কো চুল, পরনে ময়লা ও অবিন্যস্ত পোশাক। কখনও ধীর পায়ে ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলা, আবার কখনও রাস্তার এক কোণে বসে পথচলতি মানুষের কাছে হাত পাতা। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের ঘাটকোপারের রাজপথে দেখা গেল এমনই এক দৃশ্য। কেউ অবজ্ঞার দৃষ্টিতে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন, কেউ বা সামান্য কিছু পয়সা ছুড়ে দিলেন। পথচলতি মানুষের ঘুণাক্ষরেও আঁচ পাওয়ার কথা ছিল না যে, তাঁদের সামনে হাত পেতে থাকা ওই ব্যক্তি আসলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক এক বিধায়ক। তিনি ঘাটকোপার পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী পরাগ শাহ। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আধ্যাত্মিক গুরুর পরামর্শ মেনে অহঙ্কার বর্জন ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যেই এমন রূপ নিয়েছিলেন ওই বিধায়ক। তাঁর কথায়, পার্থিব বিত্ত, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা মানুষের মনে যে অন্ধ অহঙ্কার তৈরি করে, তা থেকে মুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুঃখ-কষ্ট ও নিঃস্ব জীবনের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করতেই তিনি এই পথ বেছে নেন। সেই নির্দেশ মেনেই কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেছনে ফেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য তিনি মিশে যান সাধারণ ভিক্ষুকদের ভিড়ে। কয়েক ঘণ্টা ঘাটকোপারের রাস্তায় কাটিয়ে ভিক্ষা করার পর তিনি ছদ্মবেশ সরিয়ে ফের স্বাভাবিক পোশাকে সেই এলাকায় ফিরে আসেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
তবে কোটিপতি জনপ্রতিনিধির এই কৃচ্ছ্রসাধন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বুঝতে ছদ্মবেশ নিতে হচ্ছে কেন? বিরোধীদের তোপ, এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে শাসক দলের নেতারা বাস্তব মাটি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সম্পদ ও প্রভাবের বাইরে এসে মাটির কাছাকাছি পৌঁছনোর এই কৌশলকে নিছক প্রচারের চমক হিসেবেও দেখছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, পরাগ শাহের এই পদক্ষেপ আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধি নাকি রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তৈরির প্রয়াস, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
















