রেলযাত্রার সঙ্গে জড়িত ন্যূনতম পরিষেবাগুলিই বহু স্টেশনে ঠিকমতো মিলছে না ক্যাগের (CAG) সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনই ছবি সামনে এসেছে। দেশের ৫১২টি নন-সাবার্বান স্টেশন পরিদর্শনের পর দেখা গিয়েছে, ৪৫৮টি স্টেশনেই যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও না কোনও ঘাটতি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিও এই সমস্যার বাইরে নয়। হাওড়া (Howrah), শিয়ালদহ (Sealdah), নয়া দিল্লি, মুম্বই সেন্ট্রাল এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের মতো ব্যস্ত স্টেশনেও বসার জায়গা, শৌচাগার, ডাস্টবিন-সহ প্রয়োজনীয় কিছু ব্যবস্থায় ঘাটতি চিহ্নিত করেছে অডিট।

এই সামগ্রিক চিত্রের মধ্যেই আলাদা করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পানীয় জলের গুণমান। গত ১২ অগাস্ট সংসদে পেশ হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ছটি রেল জোনের ৫৯টি স্টেশনে জলের ব্যাকটেরিয়াজনিত মান পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতেই কয়েকটি স্টেশনের ওয়াটার কুলারের (Water cooler) নমুনায় ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি ধরা পড়ে। কোয়েম্বাটোর, পালাক্কাড জংশন, হায়দরাবাদ, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ এবং লোনাভালার মতো স্টেশন রয়েছে সেই তালিকায়।

পরিষেবার এই ঘাটতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হয়েছে পরিকাঠামোর হিসাবেও। ক্যাগের নজরে এসেছে, কয়েকটি স্টেশনে যাত্রীদের পানীয় জল নেওয়ার পর্যাপ্ত কল নেই। ১২টি স্টেশনে জলের কল, আটটিতে পাখা এবং আরও আটটি স্টেশনে ওয়াটার কুলারের ঘাটতি রয়েছে। অর্থাৎ শুধু কোনও একটি পরিষেবা নয়, যাত্রীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের একাধিক ক্ষেত্রেই সমস্যা রয়েছে বলে অডিটে উঠে এসেছে।

রেলের কাছে তাই শুধু পরিকাঠামো বাড়ানোর নয়, পরিষেবার মান বজায় রাখারও বার্তা দিয়েছে ক্যাগ। বিশেষ করে পানীয় জলের ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী ধারাবাহিক পরীক্ষা চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা ও স্টেশনের গুরুত্ব বাড়লেও সেই অনুপাতে মৌলিক পরিষেবার মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি না, ক্যাগের রিপোর্ট সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।