বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তীব্র প্রতিবাদ ও লাগাতার অচলাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে মুখরক্ষায় এবার বিতর্কিত বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল, ২০২৪-কে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (জেপিসি) পাঠানোর মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। চলতি বছরের মার্চ মাসে লোকসভায় বিলটি পেশ করার পর থেকেই এটি রাজনৈতিক দল, গির্জার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের (এনজিও) তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিলটির একাধিক প্রস্তাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সরকারি পক্ষ এখন প্রস্তাবিত আইনটিকে পর্যালোচনা কমিটির কাছে পাঠাতে চাইছে, যাকে বিল পাশের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ধাক্কা এবং সরকারের নমনীয় অবস্থানের একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ মহল।
চরম অচলাবস্থার মধ্যে জেপিসির পথ খুঁজছে কেন্দ্র!
Sponsored

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকার বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, যদিও সংসদীয় ঐক্য এখনো দূরঅস্ত্। যেখানে বিজু জনতা দলের (বিজেডি) মতো কিছু দল কড়া প্রশাসনিক নীতিমালার মধ্যে থেকে শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা সংগঠনগুলির সমস্যা সমাধানের শর্তে জেপিসির প্রস্তাবকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে, সেখানে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো শীর্ষ বিরোধী দলগুলি শুরু থেকেই বিলটি পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। ফলে জেপিসি গঠনের উদ্যোগ হলেও বিরোধীদের সম্পূর্ণ সম্মত করানো এবং বিলটি নিয়ে সার্বিক সমঝোতায় পৌঁছানো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিরোধীদের মুখ্য অভিযোগটি হল, এই বিলটির মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলির কাজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। ডিএমকের প্রতিনিধিদল ও গির্জার প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে নীতিমালার অস্পষ্টতা ও প্রশাসনিক জটিলতার ওপর প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও কেন্দ্র সাফ জানিয়েছে যে এই সংশোধনী সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, তবুও মাঠপর্যায়ে দাতব্য বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল এবং জটিল লালফিতার ফাঁস নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হতে চলায় সংশোধনী বিলটি সরাসরি পাস করানো অসম্ভব বুঝে সরকার এখন কৌশলগতভাবে জেপিসি প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখার পথ বেছে নিতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনার যুক্তিতে কেন্দ্র শক্ত আইনি ভিত্তি তৈরির কথা বললেও নীতি প্রণয়নে পূর্ববর্তী পর্যালোচনার অভাব ও বিরোধীদের আস্থা অর্জনে বিলম্ব সরকারের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপরই প্রশ্ন তুলে দিল।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













