জাতীয় গান (National Song) ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে এবার শাস্তির বিধান আনতে চাইছে কেন্দ্র। শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ বা ‘বন্দে মাতরম’ বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই (Nityananda Rai)। এই বিলে জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১-এ সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-র মতো ‘বন্দে মাতরম’ গানের জন্যও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনের উদ্দেশ্য বলে মত কেন্দ্রের। 

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো, বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দু'টিই হতে পারে। বর্তমানে জাতীয়কে অসম্মান করা, গানে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো বিষয়ের উপরেই এই বিধি লাগু আছে। সংশোধনী বিলে ‘বন্দে মাতরম’-কেও আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে, কবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। মোদি সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষার্থে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। 

নিট-ইউ জি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) বিরোধীদের তুমুল হৈ হট্টগোলে মধ্যে এদিন বিলটি পেশ হয়। বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, আইন করে দেশপ্রেমকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে। সিপিআই (CPI) সাংসদ পি সন্দোষ কুমারের আরও অভিযোগ, এই আইন আনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে (Bankimchandra Chatterjee) ঘিরে অহেতুক বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। 

এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি করে দেওয়া হয়।