দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের একের পর এক অভিযোগের পর আইন আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। বুধবার ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাশ হয়েছে ‘পাবলিক একজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁসকে সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এবার শুধু অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সংশোধনী বিলে (Amendment Bill) দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। যদি কোনও বেসরকারি সংস্থা বা পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা এবং আট বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব রয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ভূমিকার সমালোচনা এবং আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি দমনপীড়ন। এইসবের বিরোধিতা করলেও এই বিলটির বিরোধিতা করেননি তৃণমূল সহ বেশ কিছু বিরোধী দল।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ১৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের জমা দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছে দিল্লির বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত (Fast-track court)। তদন্তকারী সংস্থাকে অতিরিক্ত নথি দাখিলের জন্য আরও তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, প্রশ্নপত্র তৈরির পর্যায় থেকে শুরু করে অর্থের বিনিময়ে তা পাচার এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পুরো চক্রের সন্ধান মিলেছে তদন্তে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (National Testing Agency) কোনও সরকারি আধিকারিক বা শীর্ষ কর্তাকে সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা তিন জন বিষয়বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী এবং দুটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তির নামও তদন্তে উঠে এসেছে বলে তাঁরা জানিয়েছে ।
















