টাটা সন্স থেকে পদত্যাগ করলেন এন চন্দ্রশেখরন। তবে মেয়াদ পূর্ণ করবেন অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে পুনরায় নিযুক্ত হতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চন্দ্রশেখরন। আগামী ১৮ অগাস্ট টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠক রয়েছে। তার আগে চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগ ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে। 

১৯৮৭ সালে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসে বা টিসিএস-এ চাকরি শুরু। সাধারণ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে পথচলা শুরু হলেও, চার দশক এই কোম্পানিতেই দাপট বজায় ছিল তাঁর। কয়েক বছরের মধ্যে ওই কোম্পানিতেই চিফ অপারেটিং অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ২০০৯ সালে সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পথচলা শুরু। ২০১৭ সাল পর্যন্ত টিসিএস-এর সিইও ও এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই গোটা দেশের মধ্যে টিসিএস উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। 

২০১৬ সালে টাটা সন্স জয়েন করেন চন্দ্রশেখরণ। কয়েক মাস পরেই ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।  টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে চন্দ্রশেখরণ টাটা মোটরস, টাটা স্টিল, টাটা পাওয়ার, টিসিএস, ইন্ডিয়ান হোটেলস-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন চন্দ্রশেখরণ। 

কিন্তু কেন আচমকাই পদত্যাগ? তা এখনও স্পষ্ট নয়। টাটা গোষ্ঠীর তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে টাটা গোষ্ঠী যখন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই সময় চন্দ্রশেখরনের ইস্তফাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল টাটা গোষ্ঠীর সেবামূলক প্রতিষ্ঠান টাটা ট্রাস্টস। টাটা ট্রাস্টস এবং টাটা সন্স-এর বিরোধের জেরেই চন্দ্রশেখরন পদত্যাগ করলেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে।