স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে সম্পূর্ণ 'বন্দে মাতরম' ('Vande Mataram') গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর (Congress leader Sonia Gandhi) বিরুদ্ধে। এবার এই ঘটনায় তাঁর নিন্দায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বন্দে মাতরম-এর অসম্মান নিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) প্রপৌত্র সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)।
রবিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় কংগ্রেসের মালিক সোনিয়া পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে বিরক্তি, আপত্তি এবং বিরোধিতা করেন, তা গোটা দেশ দেখেছে।
কংগ্রেসের কোনও কোনও নেতা তাঁদের মালকিনকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলেও বাস্তবে যে ভিডিও দেখা গিয়েছে, তাতে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনও সুযোগ কংগ্রেস নেতাদের কাছে নেই।" তাঁর কথায়, "স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঞ্জীবনী মন্ত্র ছিল বন্দে মাতরম। সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমূল্য সৃষ্টি গোটা দেশ গ্রহণ করেছে। এটি জাতীয়তাবাদের মন্ত্র। এটি সঞ্জীবনী মন্ত্র। এটি জাগরণের মন্ত্র। বন্দে মাতরমের অপমান মানে দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ এবং বঙ্কিমচন্দ্রের অপমান। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।"
এদিকে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সোনিয়াকে চিঠি লিখে গভীর দুঃখ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে দেশের নাগরিক, বিশেষ করে বাংলার মানুষের কাছে নিশঃর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বলেছেন ঐতিহাসিক ভুলের ''লজ্জাজনক পুনরাবৃত্তি'।
সুমিত্রর দাবি, কংগ্রেস কর্মীরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বন্দে মাতরম-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাইছিলেন। তখন সোনিয়া গান্ধীর অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার তা থামানোর চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছেন। তিনি লিখেছেন,"একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে আমি আজ গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে এই চিঠি লিখেছি।"
শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় গান তথা বন্দনাগীতি বন্দে মাতরমের সব কটি স্তবক গাওয়া হল। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্টির অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক পরিবেশন করার কথা। কিন্তু শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ছয়টি স্তবক পরিবেশন করা হয়। এই নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর ক্ষোভ বোঝা যায়। গানটি পরিবেশনের সময় প্রথম এই বিষয়টি নজর করেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি পাশে দাঁড়ানো দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Party President Mallikarjun Kharge) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। গান থামাতে প্রথমে সোনিয়া , পরে খাড়্গে সেবাদল কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেবাদল কর্মীরা গান থামাননি।
















