মোদি সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও অসংবেদনশীল আচরণের প্রতিবাদে ফের পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত ২৫ জুলাই দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দফতর পর্যন্ত পদযাত্রার আয়োজন করার কথা ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানায় জেন-জি সংগঠনটি। তারা জানিয়েছে, নিটকাণ্ডে মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা এই প্রতিবাদী পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন।
এই কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সব রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়ে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষক পদের শূন্যতা এবং বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে পানীয় জল ও ব্যবহারের উপযোগী শ্রেণিকক্ষের মতো মৌলিক সুবিধার অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি রাজ্যগুলির শিক্ষামন্ত্রীদের কাছে "জনশিক্ষা ব্যবস্থাকে জরুরি অগ্রাধিকার" দেওয়ার আহ্বান জানান। সোমবার দুপুর ২টোয় সিজেপির জাতীয় কার্যকরী কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা সব ধরনের এফআইআর প্রত্যাহার এবং মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় কেন্দ্রের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় সেখানে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার এখনও পর্যন্ত দেশ জুড়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার করেনি। ফলে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একসঙ্গে সমস্ত এফআইআর খারিজ করা শীর্ষ আদালতের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করছে। বিষয়টিকে চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাঁরা সাফ জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পথ খোলা রাখা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফায় দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথও রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে এবং সদিচ্ছার সঙ্গে পূরণ করার জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। সেইসময় সারা দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। সিজেপি জানিয়েছিল, তারা সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আন্দোলন স্থগিত করছে। পরবর্তীতে নিজেদের সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে সংগঠনটি শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতার দাবি তুলে ধরে। সিজেপির বক্তব্য, আমরা আশা করি সব রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এইসব প্রশ্নের জবাব দেবেন এবং সাধারণ মানুষের সামনে তথ্য পেশ করবেন। দেশের ভবিষ্যৎ আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ওপর নির্ভর করছে। তাই সময় এসেছে সরকারের জনশিক্ষাকে সঠিক অগ্রাধিকার দেওয়ার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য দল দেশের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে শিক্ষা পরিকাঠামোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন মারাত্মক খামতি প্রকাশ্যে আনছে। এজন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে হেনস্থা ও হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে সিজেপি সদস্যদের।
















