স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে তাল কাটল কংগ্রেসের অন্দরে। দলের অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের রীতি মেনে গানটির প্রথম দু’টি স্তবক পরিবেশনের কথা থাকলেও শনিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে গাওয়া হল সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক। বিষয়টি সামনে আসতেই অস্বস্তি বাড়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। অনুষ্ঠান শেষে সেবা দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে রাহুল গান্ধীও (Rahul Gandhi) স্পষ্ট করে দেন, কংগ্রেসের (Congress) নিজস্ব সিদ্ধান্ত মেনেই গান পরিবেশন করা উচিত ছিল।
এ দিনের ঘটনায় গান শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সেবা দলের কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গান থামানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে রাহুলের সঙ্গে সেবা দলের কর্তাদের কথা হয়। সূত্রের খবর, দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, দেশপ্রেম কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রশ্নে কংগ্রেসকে কারও কাছে নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে হবে না। ফলে দলের নির্ধারিত রীতিই অনুসরণ করা উচিত ছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হতে সময় লাগেনি। বিজেপি অভিযোগ তোলে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বেরই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। কংগ্রেসের তরফে অবশ্য সেই ব্যাখ্যা মানা হয়নি। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, বিষয়টি গানটির বিরোধিতার নয়; কংগ্রেসের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মেনে চলার। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শও সেই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল বলে জানান তিনি।
‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ রূপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই গানটির পরের অংশ নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের আপত্তি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই কংগ্রেস বরাবর প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে গানটির পরিবেশন সীমাবদ্ধ রেখেছে। অন্যদিকে বিজেপির অবস্থান, সম্পূর্ণ গানটির মধ্যেই ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। কেন্দ্রের ছয় স্তবক পরিবেশনের সিদ্ধান্তের আবহে এ দিনের ঘটনা সেই পুরনো বিতর্ককেই ফের কংগ্রেস বনাম বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতের ময়দানে নিয়ে এল।
















