দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় PG বিল্ডিং ধসে সাত জনের মৃত্যুর ঘটনায় ছয় অভিযুক্তের বিচারবিভাগীয় হেফাজত আরও ১৪ দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিল আদালত। সোমবার পাটিয়ালা হাউস কোর্টে অভিযুক্তদের হাজির করানো হলে তদন্তের অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাড়ির মালিকের ছেলে মহেশ গুপ্ত, তাঁর বাবা-মা, PG পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুধাংশু ও শুভম ত্যাগী এবং শ্রমিক ঠিকাদার সনোজ। তাঁদের আগের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের আদালতে পেশ করা হয়েছিল।
দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে পাঁচতলা ওই ভবনটি ‘হস্টেল ডেজ’ নামে ছেলেদের PG হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ আচমকাই ভবনটি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে সাত জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বাড়ির মালিক ৭৫ বছরের উর্মিলা, তাঁর ৮১ বছরের অবসরপ্রাপ্ত স্বামী হরিরাম এবং তাঁদের ৫২ বছরের ছেলে মহেশকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। জেরায় মহেশ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের হয়ে তিনি বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি দেখভাল করতেন। পুলিশের দাবি, ২০২৫ সালের আগস্টে ভবনটি সুধাংশু ও শুভম ত্যাগীকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখানেই ‘হস্টেল ডেজ’ নামে PG চালু করা হয়। অন্যদিকে, ভবনের বেসমেন্টে মেরামতির কাজের দায়িত্বে থাকা শ্রমিক ঠিকাদার সনোজকেও গ্রেফতার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ থেকে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সনোজ জানিয়েছেন, বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল। বর্ষার সময় গত আট থেকে ১০ দিন ধরে সেখানে বর্জ্যপদার্থ জমে ছিল। পাশাপাশি ভবনের নিচতলায় বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের জন্য নির্মাণকাজ চলছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবন ধসের ঘটনায় বাড়ির মালিক, PG পরিচালনাকারী এবং মেরামতি ও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর রাজধানীতে PG আবাসনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে পৃথক কয়েকটি আবেদনও বিচারাধীন। তদন্ত এগোনোর পাশাপাশি ভবনটির নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেখানে চলা মেরামতির কাজের নিয়ম মেনে হয়েছিল কিনা, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
















