“প্রতিবাদ করার কোনও যৌক্তিক কারণ থাকলে ছাত্ররা প্রতিবাদ করতেই পারে। এতে বার কাউন্সিলের ঢোকার কী প্রয়োজন?” নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের (NALSAR University) পড়ুয়াদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বিসিআইয়ের (BCI) পদক্ষেপে এমনই কড়া প্রশ্ন তুললেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant)। শুনানিতে তিনি বলেন, “ছাত্ররা সরাসরি আমাকে চিঠি লিখেছে। এটা তো আমার আর ওদের মধ্যকার একটা খোলামেলা কথোপকথন! এখানে বিসিআইয়ের নাক গলানো সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং অহেতুক।” নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমি যখন নিজে ছাত্র ছিলাম, তখন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর তোলে বা প্রতিবাদ জানায়, তবে তাদের সেই অনুমতি দেওয়া উচিত।”
আমার আর ওদের মধ্যেকার বিষয়, নাক গলাবেন না: কাদের ধমক CJI সূর্যকান্তর
Sponsored

নালসারের ২০২৬ ব্যাচের পড়ুয়াদের এনরোলমেন্ট বন্ধ রাখার বিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আর্জি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিসিআইয়ের কাছে নোটিশও পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) প্রশ্ন তোলেন, “এই ধরনের একটা বিতর্কিত প্রস্তাব নেওয়ার আগে কি বিসিআইয়ের যথাযথ বৈঠক ডাকা হয়েছিল? আমরা তা জানতে চাই।” আদালতে বিসিআই জানায়, পড়ুয়াদের এনরোলমেন্ট বন্ধ রাখার আগের নির্দেশ ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সদ্য পাশ করা পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “পড়ুয়াদের বলুন এনরোলমেন্ট সেরে নিতে। তারা সুপ্রিম কোর্টের বারে যোগ দিক। লিগ্যাল এইড প্যানেলে আমরা তাদের যুক্ত করব।”
নালসারের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করে পড়ুয়াদের একাংশের প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে বিসিআই কড়া অবস্থান নেয়। চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয় কারা ওই কর্মসূচির নেপথ্যে ছিলেন, কারা তা সংগঠিত বা পরিচালনা করেছিলেন, তার বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২০২৬ সালে নালসার থেকে আইন ডিগ্রি পাওয়া কোনও পড়ুয়াকে রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিসিআইয়ের অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এবং বাইরের কয়েক জন ব্যক্তি পড়ুয়াদের প্রভাবিত করেছিলেন।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই অবস্থান বদলায় বিসিআই। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ ব্যাচের অধিকাংশ পড়ুয়াই ওই কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন না। তাই তাঁদের এনরোলমেন্ট আটকে রাখা হবে না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কোনও ছাত্রকে তার কোনও দোষ না থাকা সত্ত্বেও শাস্তি পেতে দেওয়া হবে না।” পাশাপাশি কয়েক জন শিক্ষক ও বাইরের ব্যক্তির প্ররোচনার অভিযোগের তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছে বিসিআই। উপাচার্যের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত বদল নালসার বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













