দেশজুড়ে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে টানা ছাত্র আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Education Minister Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের পর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে মরিয়া কংগ্রেস (Congress)। শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের লড়াইয়ের ফল বলে দাবি করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Leader of the Opposition in the Lok Sabha, Rahul Gandhi) জানান, এটি শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুধু একজন মন্ত্রীর বিদায়ে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পথে এক বড় পদক্ষেপ। দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে অভিনন্দন। তোমাদের জন্য আমরা গর্বিত।”
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ছাত্র আন্দোলনের জয়, কেন্দ্রকে আরও চাপে রাখার বার্তা রাহুলের
Sponsored

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের প্রশংসা করে রাহুল বলেন, "যে সমস্ত তরুণ-তরুণী ও ছাত্রছাত্রী গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য রাস্তায় নেমে দৃঢ়ভাবে লড়াই করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের শক্তি কতটা কার্যকর হতে পারে।" একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের শেষ কথা নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান এক জন প্রতীক মাত্র দুর্নীতি, অক্ষমতা ও শিক্ষা ধ্বংসের প্রতীক। ওঁর যাওয়া ভাল কথা, কিন্তু এবার সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে।” আরএসএসকে আক্রমণ করে তাঁর আরও দাবি, "শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিপর্যয়ের জন্য মোদিজি যতখানি দায়ী, সমপরিমাণ অপরাধী আরএসএস ও। কারণ উইপোকার মতো কাজ করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে ওরা। নলেজ বা প্রকৃত জ্ঞানের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও ছাত্রদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনও অপূর্ণ বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর হামলা ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপেরও দাবি জানান তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Home Minister Amit Shah) নিশানা করে রাহুল বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ওপর গুলি ও চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন অমিত শাহ। ভারতের ভবিষ্যৎ তথা তরুণ প্রজন্মের ওপর স্বদেশের পুলিশের এই প্রাণঘাতী আক্রমণ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।”
সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশ্নে বিরোধীরা একজোট হয়ে কেন্দ্রকে চাপে রাখবে বলেও ইঙ্গিত দেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, "এই সরকারকে সরানোর সময় এসে গিয়েছে।” পাশাপাশি কেন্দ্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "ভারত আপনাদের ব্যক্তিগত জমিদারি নয়। সংবিধান ও এ দেশের প্রতিষ্ঠানের আসল মালিক ভারতের জনগণ। যদি এই ভুল পথ থেকে না ফেরেন, তবে এই আন্দোলন ভবিষ্যতে ১০ গুণ বড় আকার ধারণ করবে।” শেষে তিনি জানান, "কংগ্রেস পার্টি এই ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। এই লড়াই ভারতের অন্ধকার অতীত অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও আরএসএস-এর (RSS) সঙ্গে ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। আর আমরা শতভাগ নিশ্চিত, ভারতের ভবিষ্যৎ অতীতে পরিণত হওয়া শক্তিকুলকে পরাজিত করবেই।”
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













