কুম্ভমেলার বিশাল পরিকাঠামোয় যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, তার সামান্যতম অংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করলে বন্ধের মুখ থেকে বেঁচে যেত শতাধিক সরকারি মারাঠি স্কুল। নাসিকে নিজের পুরনো স্কুলে দাঁড়িয়ে এ ভাবেই রাজ্যের শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে। মহারাষ্ট্রের আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল সরকারি খরচ বনাম স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই বৈপরীত্য সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে।

গত শনিবার নাসিকে নিজের স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মারাঠি মাধ্যম স্কুলগুলির করুণ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন বিচারপতি ভারালে। তিনি জানান, কুম্ভমেলার পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কুম্ভের পরিকাঠামোয় ৩৪ হাজার কোটি এবং একটি করিডর প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই খরচে তাঁর কোনও আপত্তি নেই জানিয়েও বিচারপতির প্রশ্ন, কুম্ভের মোট বরাদ্দের মাত্র ০.১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩২ কোটি টাকা যদি শিক্ষা খাতে দেওয়া যেত, তবে রাজ্যের ১০০ থেকে ১৫০টি মারাঠি স্কুলকে অবলুপ্তির হাত থেকে অনায়াসেই বাঁচানো যেত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে নাসিকের সিংহস্থ কুম্ভমেলার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় ২২,৪২৫.৩৯ কোটি টাকার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হচ্ছে এই মেলা। কিন্তু পরিকাঠামো উন্নয়নের আড়ালে শিক্ষায় ধারাবাহিক অবহেলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিচারপতি।

বিচারপতি ভারালের মূল আক্ষেপ বাজেটে শিক্ষা খাতের ক্রমহ্রাসমান বরাদ্দ নিয়ে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতীতে মোট সরকারি বাজেটের ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষায় ব্যয় হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুপাত উদ্বেগজনক ভাবে কমে এসেছে। উপযুক্ত আর্থিক বরাদ্দ ও পরিকাঠামোগত জরুরি সংস্কার ছাড়া এই চরম ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।