ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক পরিচালিত উচ্চাভিলাষী ‘গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন’ (সবুজ ভারত মিশন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে পেশ করা নিয়ন্ত্রক ও মহা হিসাব নিরীক্ষকের (সিএজি) একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ৯৭.৫৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রার ৯৮% বাকি: গ্রিন ইন্ডিয়া মিশনের চরম ব্যর্থতা ফাঁস করল সিএজি রিপোর্ট
Sponsored

বিগত এক দশকে ১.৪ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে বনভূমি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ০.০৩৪০৯ মিলিয়ন হেক্টর এলাকায় বনভূমি বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। পরিবেশ ও বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, বাস্তুতন্ত্রের উন্নতি এবং বনভিত্তিক জীবিকা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-'২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পর্যালোচনা করে দেখেছে সিএজি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, দুর্বল পরিকল্পনা, সমন্বয়ের অভাব এবং দীর্ঘদিনের তীব্র আর্থিক সংকটই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সিএএমপিএ (ক্যাম্পা), ১০০ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, নগর বন যোজনা এবং স্কুল নার্সারি যোজনার মতো অন্যান্য সামাজিক বনসৃজন উদ্যোগগুলোর সাথে কোনও উপযুক্ত সমন্বয় ছিল না; প্রতিটি প্রকল্প বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিচ থেকে ওপরের দিকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে প্রাধান্য না দিয়ে কম বা মাঝারি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এক চরম অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার শুরুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি প্রথম চার বছরের জন্য ২,০০০ কোটি টাকা এবং ১৩তম অর্থ কমিশনের অনুদান হিসেবে রাজ্যগুলোর অংশের ৪৪০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছিল। কিন্তু ২০১৫-'১৬ থেকে ২০২৪-'২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছরে মিশনটি বাজেট-বরাদ্দ হিসেবে পেয়েছে মাত্র ১,১৪৯.১৪ কোটি টাকা, যা মূল অনুমোদিত বরাদ্দের মাত্র ৪৭.৮৮ শতাংশ। নিয়মকানুনের ক্ষেত্রেও চরম উদাসীনতা দেখা গেছে এই সংক্রান্ত কার্যকলাপে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কোনও বার্ষিক হিসাবরক্ষণই পরিচালনা করেনি। অন্যদিকে, যেসব স্থানে হিসাব তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর অডিট হয়নি বা সহকারী নথিপত্রের সাথে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় ব্যতীত অন্য কোনও রাজ্য এই ১০ বছরের মেয়াদে কার্বন সংশ্লেষণ বা জমানোর পরিমাপ বা মূল্যায়ন করেনি। সিএজি অডিটে কেএমএল ফাইল যাচাই না করায় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো বিভ্রান্তিকর সাফল্যের চিত্র ধরা পড়েছে। ভৌগোলিক তথ্য-ব্যবস্থা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নমুনা হিসেবে নিরীক্ষিত স্থানগুলোর ৭০ শতাংশেই সবুজ ভারত মিশনের কারণে দৃশ্যমান কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from দেশ
View All →
'ককরোচ'দের নিয়ে ভয়! স্বাধীনতা দিবসে CJP-র সোশ্যাল মিডিয়া পেজ 'লক' করার অভিযোগ
1d ago

কোথায় কত দামে মিলছে পেট্রোল-ডিজেল দেখে নিন এক নজরে
1d ago

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় বন্দেমাতরমের সুর, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বিকশিত ভারতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
1d ago

পুজোর আগেই ফের ভারত-বাংলা রেল চলাচল!
1d ago

দেশের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ন্যায়বিচারের বার্তা রাষ্ট্রপতির
1d ago






