টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম দুই প্রান্তেই বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অসমে (Assam) জল কিছুটা নামলেও এখনও সাড়ে ছয় লক্ষের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬। অন্যদিকে, গুজরাট (Gujarat), দাদরা ও নগর হাভেলি (Dadra and Nagar Haveli) এবং দমন অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মধ্যে টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৭০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে এনেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। দুই অঞ্চলের প্রশাসনই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অসমে বন্যার প্রকোপ কিছুটা কমলেও সংকট এখনও কাটেনি। বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন থাকায় হাজার হাজার পরিবার ঘরছাড়া। শিবসাগর (Sivasagar), চরাইদেও, যোরহাটসহ একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই বন্যার জেরে। দুর্গতদের জন্য ত্রাণশিবির চালু রেখে খাদ্য, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বহু গ্রাম এখনও বিচ্ছিন্ন। নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষিজমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজে নৌকা, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং বায়ুসেনার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিম ভারতেও (Western India) পরিস্থিতি কম উদ্বেগজনক নয়। গুজরাট, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমনের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ায় বহু মানুষ আটকে পড়েন। এই অবস্থায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রায় ১৭০ জন মানুষকে উদ্ধার করেছে। প্রায় ১১ বার এই ধারাবাহিক উদ্ধার অভিযান চালায় উপকূলরক্ষা বাহিনী। শিল্পাঞ্চল, উপকূলবর্তী এলাকা এবং আবাসন থেকে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে হেলিকপ্টারের সাহায্যে এয়ারলিফ্ট করে অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদেরও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় দুই অঞ্চলের প্রশাসনই সতর্ক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল নামানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ত্রাণ, উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের কাজ এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
















