কাগজে প্রকল্প, খরচ হয়েছে কোটি কোটি টাকা কিন্তু বাস্তবে কতটা জল পৌঁছেছে পাহাড়ের বাড়িগুলিতে? এই প্রশ্ন তুলে জিটিএ এলাকায় জল জীবন মিশনের কাজ নিয়ে সরব হল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (Gorkha Janmukti Morcha)। তাদের অভিযোগ, একাধিক প্রকল্প এলাকায় পরিকাঠামো তৈরি হলেও তার সুফল নিয়মিত মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে জিটিএ-র অধীনে হওয়া প্রায় ২৮০টি প্রকল্পের কাজ স্বাধীন ভাবে খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Chief Minister Suvendu Adhikari) চিঠি দিয়েছেন বিমল গুরুং, রোশন গিরি ও বিধায়ক নোমান রাই।

অভিযোগের পক্ষে নিজেদের সমীক্ষার কথাও চিঠিতে জানিয়েছে GJM। ছয় সদস্যের একটি দল কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছে বলে দাবি তাদের। ছোট পুবুং, ধোত্রিয়া, গোকে ও রেলিংয়ের প্রকল্পগুলি ঘুরে দেখে দলের সদস্যরা যে ছবি পেয়েছেন, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছে মোর্চা। তাদের দাবি, বেশ কিছু বাড়িতে কল থাকলেও নিয়মিত জল মিলছে না। কোথাও আবার তৈরি জলাধারেই জল নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও কাজের গুণমান এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। শুধু পরিকাঠামো তৈরি করলেই প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।

কোটি টাকার প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে নথি ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে ফারাক রয়েছে কি না, সেটিই এবার যাচাই করতে চায় GJM। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার সময় জলের উৎস বাছাই থেকে শুরু করে DPR, টেন্ডারের আগের সমীক্ষা, কাজের মাপজোক, ঠিকাদারদের টাকা মেটানো এবং completion certificate। প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ছোট পুবুং প্রকল্পে ১৯.৩৪ কোটি, ধোত্রিয়ার তিন প্রকল্পে ৬০.৫১ কোটি, গোকে ৯.১২ কোটি এবং রেলিংয়ে ২১.৩০ কোটি টাকার ওয়ার্ক অর্ডারের উল্লেখ করে মোর্চা দাবি করেছে, বরাদ্দ ও নথিতে থাকা কাজ বাস্তবে কতটা হয়েছে তা মিলিয়ে দেখা হোক। সেই সঙ্গে sanctioned estimate, DPR এবং tender document-এর সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের তুলনামূলক যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছে।

জল সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও আলাদা প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চেয়েছে GJM। প্রকল্পগুলিতে ব্যবহৃত জলের উৎস দীর্ঘমেয়াদে টিকবে কি না, intake structure থেকে pumping system, reservoir, pipeline, distribution tank হয়ে বাড়ির সংযোগ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাই পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে। কতগুলি পরিবার বাস্তবে পরিষেবা পাচ্ছে, তারও সরেজমিনে হিসাব চেয়েছে মোর্চা। তদন্তে কোনও অনিয়ম বা গাফিলতি ধরা পড়লে আধিকারিক, ঠিকাদার কিংবা পরামর্শদাতার দায়িত্ব নির্ধারণ এবং সরকারি টাকার ক্ষতি হয়ে থাকলে তা পুনরুদ্ধারের দাবি রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির চূড়ান্ত বা বকেয়া বিল না মেটানোর আর্জিও জানানো হয়েছে। তবে GJM-এর তোলা অভিযোগ এখনও স্বাধীন ভাবে প্রমাণিত নয়। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জল জীবন মিশন নিয়ে আগেও সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল। কেন্দ্রের বক্তব্য, পানীয় জল রাজ্যের আওতাধীন বিষয় এবং প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।