যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হেনস্থার অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং প্রাক্তন সিবিআই কর্তার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার তিন সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও আবেদনকারীদের মতামত বিবেচনা করে বুধবার এই কমিটির সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি মহিলা আন্দোলনকারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও খতিয়ে দেখবে এই তদন্তকারী দল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে বিশদ তথ্য চেয়েছে আদালত। প্রয়োজনে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মামলা খারিজ করার ইঙ্গিতও দেয় বেঞ্চ। মামলা বাতিলের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে শীর্ষ আদালত জানায়, পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকারও তাদের আছে।

এর আগে সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান মিছিলে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে দিল্লি পুলিশ প্রায় ২,৮০০ জন অসামাজিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তবে সাধারণ পড়ুয়াদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক নজরদারি বা ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। একটি হলফনামায় পুলিশ দাবি করেছে, বিশৃঙ্খলা ও হেনস্থা ঠেকাতেই ছদ্মবেশে পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে না।