মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দেশ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবির। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সকাল ১১টা থেকে মেগা বৈঠক। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগগুলিকেই হাতিয়ার করে এককাট্টা হয়েছে বিরোধী শিবির। নিশ্চিতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের দিকে চেয়ে আছে সকলে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম SIR –এর নামে ভোট চুরির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ যে সঠিক ছিল বাস্তবে এখন সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নিতে মঙ্গলবারই রাজধানী পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে থাকবেন লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কংগ্রেসের তরফে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কে সি বেণুগোপাল। এ ছাড়াও আইনজীবী তথা সাংসদ কপিল সিব্বল বৈঠকে থাকবেন। বৈঠকে অখিলেশ যাদব সশরীরে উপস্থিত না হতে পারলেও সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। উদ্ধব ঠাকরে যোগ দেবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি বুধবারের বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও আন্দোলনকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
বিরোধী দলগুলির মূল অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে এইভাবেই ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। কমিশনের হিসেব বলছে, দেশের ৮২ কোটি ভোটারের মধ্যে ১৩ কোটির নাম বাদ দিয়েছে কমিশন। এর বিরুদ্ধে বিগত জানুয়ারি মাস থেকেই আওয়াজ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোর করে এসআইআর চাপিয়ে দিয়ে, বাংলার ৯২ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে, কাউন্টিং স্টেশন দখল করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তার মূল কারিগর জ্ঞানেশ কুমার। তিনি যে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক কাজ করছিলেন, তা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। এখন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার মুখ খুলতেই দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, ডিজিআইটি সীমা খান্না-সহ কমিশনে নাম বাদ দেওয়া চক্রান্তে যুক্তদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। দাবি উঠেছে আগামী সমস্ত ভোট বাতিল করতে হবে। যে রাজ্যগুলিতে সম্প্রতি ভোট হয়েছে, সেগুলিও বাতিল করতে হবে এবং পুরনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে এনে ফের ভোট করতে হবে।















