দীর্ঘদিন বন্ধ দু’দেশের রেল-চলাচল। রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর সম্পর্ক কিছুটা খারাপই হয়েছে। তার মধ্যেও দু’দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে, অার তাতে আশার আলোও দেখা যাচ্ছে। তবে এখনও এ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই পুজোয় দু’দেশের মানুষকে নিয়ে ট্রেন সীমানা পেরিয়ে ছুটবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো উদগ্রীব দুই দেশের পর্যটকরা। তাঁদের নজর ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁদের আশার আলো দেখিয়ে বুধবার কাপুরথালার ভারতীয় রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিল এলএইচবি-র একটি নতুন রেক। কিছুদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি রেক বাংলাদেশে যাবে বলে ফ্যাক্টরি সূত্রে খবর। তবে এই রেকগুলি বন্ধন, মৈত্রী ও মিতালি এক্সপ্রেসে জুড়বে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
পুজোর আগেই ফের ভারত-বাংলা রেল চলাচল!
Sponsored

ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রক। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল। তবে বাংলাদেশে তারেক রহমানের সরকার গড়ার পর দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাতে গুরুত্ব পেয়েছে রেল যোগাযোগের বিষয়টিও। জুন মাসে হওয়া বৈঠকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে থেকে তা চালু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে দুই দেশের রেলকর্তাদের মধ্যে। তবে পর্যটনের উপর নজর রেখে পুজোর আগে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে পর্যটন মহলে। এই সম্ভাবনার মূলে রয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ভারতের ভিসা চালু করা হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ পর্যটনের এক প্রতিনিধিদল এসেছে উত্তরবঙ্গ সফরে।
গত সপ্তাহে দলটি দার্জিলিং পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গে এসেছিল। আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছে দলটি। ওই দলের সদস্য টিটো চৌধুরি বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটকদের একটা বড় অংশ পুজোর সময় ভারতের দার্জিলিং, সিকিম এবং ডুয়ার্সে বেড়াতে যায়। সে কারণেই আমাদের নতুন করে কিছু খোঁজখবর নেওয়া। পুজোর আগে যাতে মিতালি এক্সপ্রেস চালু হয়, সেই দাবি আমরা আমাদের রেলমন্ত্রকের কাছে রেখে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছি।’ মিতালির পাশাপাশি মৈত্রী এবং বন্ধন নতুন করে চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ক্রস বর্ডার ট্যুরিজম নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন এ রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ২০ কোচের একটি রেক বুধবার কাপুরথালা থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তাতে তিনটি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ারকার, ১২টি নন-এসি কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ভারতীয় কারখানায় বাংলাদেশের কোচ
তৈরি হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













