ভারতের আর্থিক প্রগতি মোদির শাসনকালে কতটা ধাক্কা খেয়েছে তার প্রমাণ মিলল আবার। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা-র ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তহবিল ম্যানেজারদের কাছে এশিয়ার সবচেয়ে কম পছন্দের শেয়ার বাজারে পরিণত হয়েছে ভারত, যা আগে ইন্দোনেশিয়ার দখলে ছিল। 

সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর স্পষ্ট অভাব ভারতীয় ইকুইটির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এর পরপরই দ্বিতীয় বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ধীরগতির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি। ভারতীয় বাজারের পারফরম্যান্স বৈশ্বিক সূচকগুলির তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা  ক্রমাগত ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই মন্দাভাব দেখা গেছে। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩২ শতাংশ ফান্ড ম্যানেজার ভারতীয় বাজারের ক্ষেত্রে ‘নেট আন্ডারওয়েট’ অবস্থান নিয়েছেন।

 এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম এই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ কমাতে সংস্কারের অভাব এবং শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়নকেও প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব উন্নত হয়েছে, যেখানে মাত্র ২৭ শতাংশ ফান্ড ম্যানেজার আন্ডারওয়েট অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, তাইওয়ান এবং জাপান বিনিয়োগকারীদের পছন্দ তালিকার শীর্ষে রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে তাইওয়ান ও কোরিয়ার শেয়ার বাজার ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাপানের বাজার বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি, সেখানে ভারতের নিফটি সূচক প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। চলতি ২০২৬ সালে এপর্যন্ত বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড ২.৪০ লাখ কোটি টাকার ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছেন, যা ২০২৫ সালের ১.৬৬ লাখ কোটি টাকা বিক্রির রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহার এবং অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম বাড়ার ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দর সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে।