আরও একটা জুমলা। মোদি সরকারের আমলে ১২ বছরে ঋণের প্রকৃত অঙ্ক ফাঁস হয়ে গেল সংসদে। বাজেট (Budget) পেশের সময় ঋণের পরিমাণ যা বলা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি বোঝা রয়েছে দেশের ঘাড়ে। বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ২০১ লক্ষ কোটি টাকা! ৫৫ লক্ষ কোটি থেকে মোদি জমানার এই ১২ বছরে ঋণ বেড়ে ডাবল সেঞ্চুরি পার করে গিয়েছে। ইউপিএ জমানার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে মোদি জমানার ঋণের পরিমাণ। সম্প্রতি সংসদে এই তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। বাজেট পূর্বাভাসের সঙ্গে যার বিস্তর অমিল।
মোদির ১২ বছরে ঋণ বেড়ে ২০১ লক্ষ কোটি, তথ্য ফাঁস সংসদে
Sponsored

২০১৪ থেকে ২০২৬ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে ঋণের পরিমাণ। নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই গালভরা নানা প্রতিশ্রুতির গল্প শুনিয়ে গিয়েছেন। ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ’এর স্বপ্ন ফেরি করেছেন। কিন্তু প্রচার-সর্বস্ব নরেন্দ্র মোদি সরকারের সেই বেলুন চুপসে গিয়েছে। সংসদে প্রকাশিত তথ্যেই ফানুস ফুটো হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের সরকার জানাতে বাধ্য হয়েছে ঋণের প্রকৃত পরিমাণ। সেই অঙ্কের সঙ্গে বাজেট পূর্বাভাস মিলছে না মোদি সরকারের। ফের ফাঁস হয়ে গিয়েছে মোদি সরকারের জুমলা।
ইউপিএ আমলে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের শাসনকালে শেষ অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ভারতের ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪.০৪ লক্ষ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা। এরপর এসেছিল তথাকথিত আচ্ছে দিনের সরকার। তারপরই মোদি-যুগের ১২ বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সেই ঋণের পরিমাণ।
সংসদে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত জবাব দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতের উপর ঋণের বোঝা রয়েছে ২০১ লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১৯১ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ রয়েছে ৯ লক্ষ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ঋণের অঙ্কটি গিয়ে দাঁড়াবে ১৯৭ লক্ষ ১৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে বর্তমান তথ্যের সঙ্গে সেই পূর্বাভাসের বিস্তর ফারাক। আরও চার লক্ষ কোটি টাকা বেশি ঋণের বোঝা চেপেছে ভারতের উপর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মোদি জমানায়। মনমোহন জমানার থেকে বিগত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি দেশের ঘাড়ে চাপিয়েছেন ১৪৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বিপুল ঋণের বড় অংশ দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামো, যেমন সড়ক, রেলপথ, বন্দর এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে খরচ করা হয়েছে। সেখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, আকাশছোঁয়া ঋণ নিয়েও পরিকাঠামো ও পরিষেবার কেন এই বেহাল দশা?
এদিকে তৃণমূল আমলে রাজ্য যখন ঋণ নিয়েছে বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প ও পরিকাঠামো রূপায়ণে, তখন বিজেপি রে রে করে উঠেছে। এখন ক্ষমতায় এসে সাফাই গাইছে, সাত লক্ষ কোটি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গিয়েছে বিগত সরকার। কিন্তু দিনের পর দিন যে বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করে গিয়েছে কেন্দ্রের সরকার, তার ফলে ঋণ নিয়ে মানুষের পরিষেবা ও প্রকল্প চালু রাখতে হয়েছে তা নিয়ে স্পিকটি নট রাজ্য বিজেপি।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from দেশ
View All →
মন কি বাতে কার্গিলের শহিদদের স্মরণ মোদির, পাকিস্তানকে কড়া বার্তা রাজনাথের
14h ago

পদের থেকে বড় দেশ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের উদ্যোগে কুর্ণিশ করে শাহী বার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর
16h ago

নিট আন্দোলন থেকে সরাসরি রাজনীতির আঙিনায়! সিজেপি নেতারা দিলেন বড় ইঙ্গিত
16h ago

সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়ে কী বললেন প্রহ্লাদ যোশী?
17h ago

ইস্তফা ধর্মেন্দ্রর! নয়া শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা, কাকে দায়িত্ব দিলেন মোদি?
1d ago







