গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের চিকিৎসার খরচ কমানোর লক্ষ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করা হয়েছিল আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন-আরোগ্য যোজনা (Ayushman Bharat-Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana)। প্রকল্পের নিয়ম না মানার অভিযোগে ২৩৫৯টি হাসপাতালকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই কারণে আরও ১২০০টি হাসপাতালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা (Union Health Minister JP Nadda) এই তথ্য জানিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অনিয়মের এমন বিস্তার ঘটার আগে কেন্দ্রের নজরদারি ব্যবস্থা আদৌ কতটা সক্রিয় ছিল?

দেশের সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে স্বাস্থ্য প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে, সেই আয়ুষ্মান ভারতেই এবার সামনে এল অনিয়মের বড়সড় ছবি। এই অভিযোগে হাসপাতাল বাদ দেওয়া এবং আয়ুষ্মান ভারতের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৯টি এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্র। অভিযুক্ত হাসপাতালগুলির উপর মোট ৩২৮.৪৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ভুয়ো দাবি, বেআইনি বিল তৈরি এবং প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে প্রতারণা রুখতেই এই ব্যবস্থা বলে কেন্দ্রের বক্তব্য। কিন্তু এতগুলি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যই কার্যত কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার উপর নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া হাসপাতালগুলিতে আপাতত আয়ুষ্মান ভারতের ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসা মিলবে না। ফলে প্রকল্পের সুবিধা নিতে যাওয়ার আগে হাসপাতালটি এখনও অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্বও কার্যত উপভোক্তাদের উপরই পড়ছে।

অনিয়ম ঠেকাতে এবার প্রযুক্তির উপর ভরসা করছে কেন্দ্র। জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে ভুয়ো বিল, একই দাবির পুনরাবৃত্তি এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার মতো কারচুপি শনাক্ত করছে। কেন্দ্রের দাবি, হাসপাতাল কোনও আর্থিক দাবি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা যাচ্ছে। অর্থ মেটানোর আগেই আটকে দেওয়া হচ্ছে ভুয়ো দাবি। কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৬৭৬.১৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

২০১৮ সালে নরেন্দ্র মোদির আমলে চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কথা। এনএইচএ-র পোর্টাল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ অগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৩৪ হাজার ৪৩৭টি হাসপাতাল। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল ২০ হাজার ৩৬৩টি এবং বেসরকারি হাসপাতাল ১৮ হাজার ৭৪টি। এত বড় পরিসরের একটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে হাজার হাজার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য সামনে আসায় প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—কেন্দ্রের এত প্রচারিত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে অনিয়ম রুখতে নজরদারি ব্যবস্থা কি যথেষ্ট ছিল, নাকি অনিয়ম সামনে আসার পরেই সক্রিয় হচ্ছে কেন্দ্র?