ভারতের অপারেশন সিন্দুর এর পর নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ। সেই আবহেই পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দায় শুক্রবার তিন দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে আলোচনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আমেরিকা-ইরান (US-Iran) সংঘাতের আবহে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৌশলগত বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে ইসলামাবাদ এই সহযোগিতাকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সম্ভাব্য কোনও সংঘাতে সৌদি আরব বা তুরস্কের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও এই সম্ভাব্য সমঝোতা ভারতের নিরাপত্তা মহলের নজর কেড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র মানুষের মৃত্যুর পর ৭ মে ভারত অপারেশন সিন্দুর চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্দিষ্ট হামলা চালায়। পরে সীমান্তে সংঘাত বাড়লেও শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। সেই অভিযানের পরই তৎকালীন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ভারত। এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।