পরিষদীয় বা সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই হবে শেষ কথা। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-মামলায় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিল, রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে পার্টির সাংগঠনিক নেতৃত্বের হাতে। কখনই বিধায়ক বা সাংসদেরা রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বর্তমান আইনই বলছে যে কোনও রাজনৈতিক দলের হাতে তার পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ থাকে। পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠরা সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে সর্বক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট করা আছে কি না। এ-প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) জানতে চান, প্রতীক আদতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলেরই কি না। আইনজীবী কপিল সিব্বল সম্মতি জানালে বিচারপতি বলেন, পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিচার করে সেই দলকে প্রতীক তুলে দিয়ে ভুল করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
বিধায়কদের দাপট নয়! শেষ কথা রাজনৈতিক দলই: স্পষ্ট বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
Sponsored

আগেই শিবসেনা ভেঙে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় নতুন শিবির হয়েছিল। একনাথ শিন্ডে ছিলেন সেই শিবিরের নেতৃত্বে। সম্প্রতি লোকসভায় উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ভেঙে কয়েকজন সাংসদ সেই শিবিরে যোগ দেওয়ার পর সংবিধানের দশম তহসিলের কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন উদ্ধব শিবিরের নেতা সুনীল প্রভু। তিনি মামলায় এই প্রশ্নও তোলেন যে, মহারাষ্ট্রের স্পিকার কেন শিবির বদল করা বিধায়কদের পদ খারিজ করেনি? অপর একটি মামলা করেন উদ্ধব ঠাকরে নিজে। সেখানে জানতে চাওয়া হয় কেন নির্বাচন কমিশন শিবসেনার নাম ও প্রতীক শিন্ডে শিবিরকে ব্যবহারের অনুমতি দিল? এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা হবে। অর্থাৎ বিধায়ক-সাংসদেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই মান্যতা পাবে। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের সামনে আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল (Kapil Sibbal) করেন, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই মামলার উপর। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। ফলে ভোটের মূল্যই থাকছে না! জনতার রায় সরকার গঠনে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এক দলের প্রতীকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি অন্য দলে মিশে যান, তাহলে অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোন দিকে, সেটাই দেখা উচিত বলে জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













