ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC in Jharkhand) পরীক্ষায় দুর্নীতি কতটা গভীরে শিকড় বিছিয়ে দিয়েছে, সিআইডির প্রাথমিক তদন্তেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দিনের আলোর মতো। জানা গিয়েছে, দুর্নীতির লক্ষ লক্ষ টাকার হাতবদল হত চেন-সিস্টেমে। নেপথ্যে কাজ করত একটা বড় সিন্ডিকেট।নিয়োগ-পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে যখন উত্তাল গোটা ঝাড়খণ্ড, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, ফাইনাল সিলেকশনের জন্য এক একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হত ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আর ইন্টারভিউতে স্কোর-কারচুপি বাবদ নেওয়া হত ১৫ লক্ষ টাকা করে। তবে এটাই সব নয়। পরীক্ষার একদম প্রথম পর্বে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্যই নেওয়া হত ২ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা। এরও আবার সুনির্দিষ্ট ক্যাটেগরি ছিল। জেনারেল ক্যাটেগরির পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হত ৫ লক্ষ টাকা। সংরক্ষিত ক্যাটেগরির চাকরিপ্রার্থীদের দিতে হত ২ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এক একজনের কাছ থেকে আদায় করা হত প্রায় কোটি টাকা। এই টাকার ২০ শতাংশ কমিশন বরাদ্দ ছিল টিডিপিএল নামে একটি সংস্থার বিশেষ কয়েকজনের জন্য। লক্ষণীয়, এই সংস্থাই ঝাড়খণ্ডে যাবতীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষার আয়োজন করত।
এত ভয়ঙ্কর জালিয়াতির তথ্য কেমন করে এল সেরাজ্যের তদন্তকারী সিআইডি অফিসারদের হাতে? গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে গিয়েছে ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষা-দুর্নীতি চক্রের মূল পান্ডা অভয় তিওয়ারি। জেরার মুখে রীতিমতো ভেঙে পড়েছে ধৃত অভয়। চাপে পড়ে জালিয়াতির সব গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে সে। স্বীকার করেছে, টিডিপিএলের চেয়ারম্যান এল ক্যাংকটের সঙ্গে তার ২ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল তার। সে জানিয়েছে, গোড্ডা জেলার পোদাইয়াহাটে ব্লক সাপ্লাই অফিসার পদে কাজ করত অভয়। তবে সরকারি চাকরি পাওয়ার আগে তার কর্মস্থল ছিল টিডিপিএল। সমস্ত সরকারি নথিতে তার নাম অভয়কুমার তিওয়ারি লেখা থাকলেও বেসরকারি সংস্থা টিডিপিএলে তার নাম ছিল মনোজকুমার তিওয়ারি। তার দুর্নীতি-রহস্যের শুরু এখানেই। লক্ষণীয়, এই টিডিপিএল পুলিশ নিয়োগের পরীক্ষা,নৌসেনায় নিয়োগ পরীক্ষা, সিআরপিএফ পরীক্ষা -সহ বিভিন্ন পরীক্ষার আয়োজনের দায়িত্বে ছিল। অন্য রাজ্যেও তারা এই দায়িত্ব পেত। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে যোগীরাজ্য-সহ একাধিক রাজ্যে ব্যান করে দেওয়া হয় তাদের।
















