সরকারি বাংলোর স্টোররুমে হঠাৎই ধরেছিল আগুন। আর সেই আগুন নেভাতে গিয়েই ধোঁয়ার কুয়াশা ঠেলে বেরিয়ে এসেছিল ৫০০ টাকার নোটের থরে থরে সাজানো দেড় ফুট উঁচু পাহাড়! রাজধানী দিল্লির সরকারি বাসভবনে সেই রহস্যময় 'ক্যাশ-অ্যাট-হোম' কাণ্ডে বিচারবিভাগের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক অধ্যায়ের যবনিকা পড়ল। লোকসভার স্পিকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির কাছে সবকটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর, সংসদে সম্ভাব্য ইমপিচমেন্টের চরম লজ্জা এড়াতে পদত্যাগ করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হতেই সমাপ্তি ঘটল তাঁর বিচারবিভাগীয় কেরিয়ারের।
অগ্নিকাণ্ডে ফাঁস 'নোট-রহস্য', ইমপিচমেন্টের চরম অপমান এড়াতে ইস্তফা বিচারপতি বর্মার
Sponsored

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ। দিল্লির ৩০ তুঘলক ক্রিসেন্টে দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার সরকারি বাসভবনের স্টোররুমে আগুন লাগে। দমকলের হাত ধরে সেই ঘটনার কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না দ্রুত বর্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করেন এবং বিচারবিভাগীয় সমস্ত কাজ থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে লোকসভায় বরখাস্তের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লা তিন সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন।
সম্প্রতি জমা পড়া সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগই একশো শতাংশ সত্যি। স্টোররুমে মেলা সেই নোটের স্তূপের কোনো বৈধ উৎস বিচারপতি দেখাতে পারেননি। তা ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দমকল ও পুলিশ সরতেই ঘর সিল করার সুযোগ না দিয়ে নিজের কর্মীদের দিয়ে পুরো জায়গা পরিষ্কার করিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মূল নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত না করা যায়। তদন্তের মুখোমুখি হয়ে বিচারপতি দাবি করেছিলেন যে, ওই ঘরের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে— কিন্তু সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যে’ বলে খারিজ করে দিয়েছে কমিটি।
তড়িঘড়ি ঘর সাফ করে ফেলার কারণে ঠিক কত কোটি টাকা সেখানে মজুত ছিল, তার সঠিক অঙ্ক সরকারি খাতায় রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। আইনি খাঁড়া এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের দরজাতেও কড়া নেড়েছিলেন যশবন্ত বর্মা, কিন্তু শীর্ষ আদালতও তাঁকে কোনো স্বস্তি দেয়নি। অবশেষে সংসদে বরখাস্ত হওয়ার চরম লজ্জা এড়াতে রাষ্ট্রপতিকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিলেন তিনি। আর এর সঙ্গেই সমাপ্তি ঘটল বিচারবিভাগের এক অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত অধ্যায়ের।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













