উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতে টায়ার অয়েল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের। সোমবার সন্ধ্যায় গজর এলাকার জারিহা গ্রামের কাছে ওম JVRD কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন লাগার সময় প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি ট্যাঙ্কে কাজ করছিলেন ছয়জন শ্রমিক। আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় দুইজন শ্রমিক আটকে পড়েন। পরে তাঁরা ট্যাঙ্ক থেকে নিচে পড়ে যান এবং তাঁদের মৃত্যু হয়। বাকি চারজন শ্রমিক ও একটি ট্যাঙ্কারের চালক কোনওরকমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই কারখানায় পরিত্যক্ত টায়ার উচ্চ তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করে তেল তৈরি করা হয়। এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় সিল করা, অক্সিজেনবিহীন চেম্বার। এমন একটি কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কিনা, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ আগুন লাগে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকেও সেই ধোঁয়া দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন আনা হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কানপুর দেহাতের চিফ ফায়ার অফিসার প্রতীক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, দুটি তেলের ট্যাঙ্কের মধ্যে একটিতে আগুন লেগেছিল। পাশের ট্যাঙ্কে আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সেটিকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি ফোম ব্যবহার করে আগুন নেভানো হয়।

মৃত দুই শ্রমিকের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পুলিশ সুপার শ্রদ্ধা নরেন্দ্র পাণ্ডে-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। অন্যদিকে, কারখানার মালিক রমেশচন্দ্র গুপ্তের দাবি, কয়েকজন শ্রমিক আগেও স্টোরেজ এলাকায় বিড়ি নিয়ে ঢুকেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সোমবারও কয়েকজন শ্রমিক বিড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকেছিলেন এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এরপরেও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রক্রিয়ার মধ্যে শ্রমিকদের জন্য কতটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল? অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা? দুর্ঘটনার আগে কোনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কী? দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পর এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়েছিল কিনা, তদন্তের পরই সেটা স্পষ্ট হবে।