স্কুলের মিড ডে মিলের পাতে ডিমের জোগান অনিয়মিত হলেও রাজনীতির ময়দানে দেদার চলছে ‘ডিম-থেরাপি’। এমনটাই অভিযোগ তুলে এবার সুর চড়ালেন বর্ধমান দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিম ছোঁড়ার ঘটনার প্রতিবাদে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল রাখার হুঁশিয়ারি দিলেন।
একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি ও আরএসএসকে তীব্র আক্রমণ করে সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, স্কুলে ডিম দেওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অথচ রাজনৈতিক বিরোধীদের গায়ে মারার জন্য ডিমের অভাব হচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিম খাওয়ার জন্য, কারও গায়ে ছোঁড়ার জন্য নয়। তাঁর অভিযোগ, এ হেন পরিস্থিতিতে পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাই নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে তিনি নিজেই লাইসেন্সড আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আত্মরক্ষার অধিকার সংবিধান সকলকে দিয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও আত্মরক্ষার স্বার্থে পিস্তলের লাইসেন্স নেওয়ার পথে হাঁটবেন।
প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নিজের অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে কীর্তি জানান, ক্রিকেট মাঠে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা মানুষ হিসেবে তিনি কাউকে ভয় পান না। দেশের সম্মান ও মর্যাদার জন্যই তিনি ময়দানে লড়াই করেছেন। বিজেপি ও আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর দাবি, বাংলায় তৃণমূল কর্মীদের ক্রমাগত ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। পরিস্থিতি আফ্রিকার জলদস্যু অধ্যুষিত অঞ্চলের থেকেও খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে সমুদ্রে জলদস্যু থাকে, আর এখানে শহরের অলিগলিতে বিরোধীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে।
একই সঙ্গে দলীয় নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে সাংসদ দাবি করেন, তাঁকে দল ছাড়ার জন্য ক্রমাগত চাপ, হুমকি ও ভয় দেখানো হচ্ছিল। কলকাতা থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। বিজেপি শিবিরের এক নেতাকে লক্ষ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, তাঁদের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে এবং ফোনে কে কী করেছেন বা কার চাপে পদক্ষেপ করেছেন, তা দ্রুত প্রকাশ্যে আসবে। গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে শেষমেশ তিনি গোটা ব্যবস্থাকে রাক্ষসরাজ বলে কটাক্ষ করেন। দুর্গাপুজোর পর থেকেই দল পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নামবে বলে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
















