উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ধস নেমে ও জল ঢুকে মারাত্মক দুর্ঘটনা নজর কেড়েছে গোটা দেশের। তবে সুড়ঙ্গে কর্মরত শ্রমিকদের দাবি, বিপর্যয়ের অনেকদিন আগেই ছাদ ও দেওয়াল থেকে নোংরা জল চুঁইয়ে পড়ার সমস্যার কথা একাধিকবার কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার আধিকারিকদের জানানো হয়েছে কিন্তু কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চামোলির পিপলকোটিতে তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (THDC) নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। ঘটনার সময়ে ভিতরে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। প্রবল জলস্রোত ও কাদামাটি-ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশ এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে শ্রমিকরা ভেতরে আটকে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল, NDRF ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন যে, ঘটনার বিষয়ে একটি ম্যাজিস্ট্রেট-স্তরের তদন্ত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শীঘ্রই তদন্তের নির্দেশ জারি করা হবে এবং এরপর দুর্ঘটনার কারণ ও কোনো সম্ভাব্য গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কিন্তু একাধিক শ্রমিক এই ঘটনা প্রসঙ্গে দাবি করেছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আগে থেকেই নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ছাদ ও দেওয়াল থেকে নিয়মিত ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ত, জলও চুঁইয়ে পড়ছিল। সংস্থার কর্তৃপক্ষকে সব সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় মেরামতি করারও অনুরোধও করা হয়েছিল কিন্তু কোনকিছুতেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে যেখানে মানুষের জীবন সঙ্কট সেখানে এতটা উদাসীন কীভাবে হতে পারে কর্তৃপক্ষ। সময়মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে কি এই বিপর্যয় এড়ানো যেত না? ঘটনার পর পুলিশ, SDRF, NDRF, ITBP এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ শুরু করে। জলস্তর এবং সুড়ঙ্গের অস্থিতিশীল অবস্থার জন্য উদ্ধারকাজও যথেষ্ট সমস্যাজনিত হয়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে ২২ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশকে উদ্ধার করা গেলেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন নিখোঁজ হয়ে যান। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ হয়েছে এবং এখনও ২ জন শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে টিএইচডিসি (তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) এই সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজটি পরিচালনা করছে। মূল নির্মাণ কাজ করছে হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (এইচসিসি)। কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোন সাড়া মেলেনি।