দিল্লিতে এক উদ্বোধনী বৈঠকের মাধ্যমে ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ নামে আইনজীবীদের একটি নতুন সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি যাদের আস্থা রয়েছে, সেই সমস্ত অনুশীলনকারী আইনজীবী, আইনের শিক্ষার্থী এবং আইন আদালতের শিক্ষকদের জন্য সদস্যপদ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী সি ইউ সিং, নন্দিতা রাও, অমিত আনন্দ তিওয়ারি এবং শাদান ফারাসাত। এ ছাড়াও পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও প্রবীণ আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অমর শরণ বক্তব্য রাখেন। সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী দেবব্রত এবং আইনজীবী মধু শরণ ছাড়াও বহু আইনজীবী এই খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন। সংগঠনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, বার অ্যাসোসিয়েশনগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কোনও আন্দোলন বা রাজনৈতিক দলের অনুসারী নানা সংগঠন ছিল। তবে যা এতদিন অনুপস্থিত ছিল তা হল— কেবল ভারতের সংবিধান, এর প্রস্তাবনা, অধিকারের গ্যারান্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি আইনি সংগঠন। ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ সেই শূন্যতা পূরণ করতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

হায়দরাবাদের ‘নালসার’ -এর ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র শিক্ষার্থীদের এনরোলমেন্ট বা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তকরণ স্থগিত করার একটি নজিরবিহীন নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই সংগঠনটি গড়ে তুললেন আইনজীবীরা। সংগঠনের মূল লক্ষ্য হল মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় আইনি সহায়তা প্রদান করা, সাংবিধানিক শাসন সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখা, গবেষণা প্রকাশ ও জনসাধারণের মধ্যে সংবিধান বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। এ ছাড়াও যেসব তরুণ আইনজীবী এবং শিক্ষার্থী জনস্বার্থ ও সাংবিধানিক চর্চায় আসতে চান, তাদের জন্য দিকনির্দেশকের কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম।