নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রবল হইচই লোকসভায়। লোকসভায় বুধবার 'দ্য পাবলিক এগজামিনেশন' (The Public Examination) বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Leader of Opposition in Lok Sabha Rahul Gandhi)। 'অসংসদীয়' ভাষায় বিজেপি (BJP) তথা কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ। 

লোকসভায় রাহুলের দাবি, তিনি সম্প্রতি একদল পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি দেশের মানুষকে মূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেন, ছাত্র, ইডিয়ট এবং অন্ধভক্ত। ছাত্র আন্দোলনকে দেশের তরুণ প্রজন্মের গভীর ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ বলেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, "যন্তর মন্তর-সহ সারা দেশে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা কোনও হিংসা বা ক্ষোভ নয়, বরং তা দেশের ভবিষ্যতের আওয়াজ।" রাহুলের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Union Minister Kiren Rijiju), স্পিকার ওম বিড়লা (Speaker Om Birla), প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Defence Minister Rajnath Singh)। পরে রাহুল বলেন, ওই শব্দ সরকারের উদ্দেশে তিনি ব্যবহার করেননি। এবং ওই শব্দগুলি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও (Home Minister Amit Shah) কটাক্ষ করেছেন রাহুল। বলেন, "তথাকথিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহস হল না লোকসভায় এসে বসার।" এদিন রাহুলের মন্তব্যের বিরোধিতা স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, যতক্ষণ না কংগ্রেস সাংসদ কোনও তথ্য তুলে ধরছেন তাঁর কোনও মন্তব্যই রেকর্ডে রাখা হবে না। এমনকী, তিনি তাঁর কথা না শুনলে পরবর্তী বক্তাকে এখনই ডেকে নেওয়া হবে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। সেই সময় নেপথ্যে কংগ্রেস সাংসদদের চেঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, "রাহুলজিকে বলতে দেওয়া হোক।" কিন্তু এনডিএ সাংসদরা প্রতিবাদ করতেই থাকেন। পরে স্পিকার আড়াইটে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করে দেন।

এদিনের ভাষণে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সুপাফিশিয়াল বিষয়, কারণ আসল শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি চালান না। শিক্ষামন্ত্রকের আসল নিয়ন্ত্রক হল আরএসএস (RSS)। মন্ত্রীর অফিসে বসা ওএসডি-র মাধ্যমেই শিক্ষা মন্ত্রক পরিচালিত হয় বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন রাহুল।