বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ভারতের একজন বৈধ নাগরিককে বাংলাদেশে (Bangladesh) জোরপূর্বক পুশব্যাক করার এক চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে বিজেপি (BJP) শাসিত মহারাষ্ট্রে (Maharashtra)। নভি মুম্বইয়ের সানপাদায় বসবাসকারী ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় মহিলা সাহিদা ফকিরকে (Sahida Fakir) পুলিশ আটক করে তড়িঘড়ি সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড এবং জমির বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কোনও আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে এই পদক্ষেপ নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
১৯৮৮ সালে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপদহ গ্রামে জন্ম হয় সাহিদার। পড়াশোনাও সেখানেই। সাহিদার বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল। সেই সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন তাঁর স্বামী জুম্মান ফকির। কিন্তু সেগুলি যথেষ্ট নয় বলে জানানো হয় এবং সাহিদার বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র চাওয়া হয়।গত ১৮ জুলাই রাতে সাহিদা যখন স্থানীয় বাজারে রাতের রান্নার জন্য সবজি কিনতে যান, তখন নভি মুম্বই পুলিশ তাঁকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে তুলে নিয়ে যায়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাঁকে অসমে নিয়ে গিয়ে সীমান্ত পার করে দেয়। বর্তমানে সাহিদা বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় একটি স্থানীয় পরিবারের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন, আর তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান ভারতে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রায় ২০ বছর ধরে মুম্বইয়ে (Mumbai) থাকা এক স্থায়ী বাসিন্দাকে রাতারাতি তাঁর নাবালক সন্তান ও স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় বর্বরতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়। স্বরূপনগরের বাসিন্দা সাহিদার পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই বেআইনি পুশব্যাকের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বিজেপি যখন কথায় কথায় ‘বাঙালি অস্মিতা’র কথা বলে, তখন গেরুয়া শাসিত রাজ্যগুলিতেই কেন বাংলা ভাষাকে ‘অনুপ্রবেশের প্রমাণ’ হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, উঠছে প্রশ্ন।
















