মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য ঝাড়খণ্ড পুলিশের (Jharkhand Police)। প্রায় দুই দশক ধরে অধরা থাকা মাওবাদী শীর্ষ নেতা মিসির বেসরাকে (Top Maoist leader Misir Besra) ধানবাদের মানিয়াডিহ এলাকা (Maniadih area of Dhanbad) থেকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজন মাওবাদীকেও আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থার নজরে থাকা এই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটিরও বেশি।
মিসির বেসরাকে মাওবাদী সংগঠনের নীতিনির্ধারণী স্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ বলে মনে করা হয়। ঝাড়খণ্ড ভিত্তিক পলিটব্যুরোর (Jharkhand-based Politburo) একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে তিনি সংগঠনের কার্যকলাপে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। 'ভাস্কর' (Bhaskar) ও 'সাগর' (Sagar) নামে পরিচয় বদলে বছরের পর বছর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে গ্রেফতার হলেও দুবছর পরে বিহারের লাখিসরাই আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি হেফাজত ভেঙে পালিয়ে যান। তারপর থেকেই তাঁকে ধরতে একাধিক রাজ্যে ধারাবাহিক অভিযান চলছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ হয় আত্মসমর্পণ করেছে, নয়তো বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। ফলে সংগঠনের অবশিষ্ট প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে মিসির বেসরার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর গ্রেফতারকে মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, অন্যদিকে পৃথক অভিযানে আরও ১৬ জন মাওবাদী অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দামের মোট অঙ্ক ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায় রয়েছেন সন্তোষ মাহাত (Santosh Mahato) ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ, যার বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। চলতি বছরে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জন মাওবাদী গ্রেফতার, ৪৫ জন আত্মসমর্পণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।
















