সোমবারই প্রকাশিত হয়েছে বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা। আর তার আগেই না কি পদ থেকে এবং দল থেকে ইস্তাফা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা (Sehejad Punawala)। তবে তার থেকেও চর্চার বিষয় হল ইস্তাফার কথা সামনে আনার ২৪ ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ‘দ্য ম্যানিফেস্টো’ (The Manifesto)-র নামে নিজের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পোস্ট করা এক ভিডিওতে পুনাওয়ালা দাবি করেন, "ভারতীয় মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দিনদুপুরে লুট করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আজ সরকারের কাছে স্রেফ একটা এটিএম-এর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।" পুনাওয়ালার অভিযোগ, তাঁদের করের বিনিময়ে করদাতারা উপযুক্ত সরকারি পরিষেবা পাচ্ছেন না।
বিজেপির (BJP) মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফার কথা জানানোর চব্বিশ ঘণ্টা আগে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এই ভিডিওতে পুনাওয়ালা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, "তাঁরা (করদাতারা) কর ও টোল দেন, কিন্তু বিনিময়ে কী পান? বাড়ির সামনে ভাঙাচোরা রাস্তা, নিম্নমানের স্কুল, জরাজীর্ণ পরিকাঠামো, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব, আর বিষাক্ত বাতাস ও দূষিত জল।" একেবারে জেন জি-দের (Gen Z) দাবি আন্দোলনের ভাষাই যেন উঠে এসেছে বিজেপি প্রাক্তন মুখপাত্রের কথায়।
পুনাওয়ালা পরে জানান, ৩০ জুলাই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি যখন ভিডিও পোস্ট করেছেন তখনও তাঁর ইস্তফাপত্রটি অনুমোদনের অপেক্ষায়। কোনও একটি সরকার নয়, বরং কেন্দ্রের সব শাসকদলের দিকেই আঙুল তুলেছেন পুনাওয়ালা। তাঁর কথায়, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের করদাতা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী টানা এই বঞ্চনা ও সমস্যার শিকার।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবার উপর জোর দিয়েছেন পুনাওয়ালা। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, "সন্তানকে যখন স্কুলে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তখন তা অনিবার্যভাবেই কোনও বেসরকারি স্কুল হয়। আর বাবা-মাকে যখন হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তখনও অনিবার্যভাবেই তা কোনও বেসরকারি হাসপাতালই হয়।" অর্থাৎ কর দেওয়ার পরেও সরকারি স্বাস্থ্য বা শিক্ষা কোনটাই দেশের মধ্যবিত্ত নাগরিক সঠিকভাবে পান না বলে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন এই বিজেপি নেতার। যদিও পুনাওয়ালার মন্তব্য নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
















