ক্ষমতার অপব্যবহার না ছিল অন্য কোন পরিকল্পনা! ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন জনতা দল (সেক্যুলার)-এর প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্জ্বল রেভান্না। বেঙ্গালুরুর যে কারাগারে তাঁকে রাখা হয়েছে, সেখানে তাঁর কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকদের হঠাৎ তল্লাশির সময় রেভান্নাকে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং সংশোধনাগারে তিনি কীভাবে ফোনটি পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে; অবহেলার অভিযোগে জেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রজ্জ্বল রেভান্নার সেলে অনিয়মের ঘটনায় আরেক কর্মকর্তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, অনিয়মের অভিযোগে কারাগারের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ইরান্না রাঙ্গাপুরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট অংশুচ কুমারকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাইপো রেভান্নাকে গত বছর ধর্ষণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ৪৮ বছরের এক মহিলার ওপর যৌন নির্যাতনের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরায় রেভান্না পরিবারের খামারবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ওই মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০২১ সাল থেকে প্রজ্জ্বল রেভান্না তাঁকে বহুবার ধর্ষণ করেছেন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিয়ো করেছিলেন এবং কাউকে কিছু জানালে সেই ভিডিয়ো প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে ভিডিয়োগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই রেভান্না জার্মানি চলে যান এবং পরবর্তীতে জেডি(এস) তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন এবং জার্মানি থেকে ফিরে আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানে, কারাগারে থাকা অবস্থায় আসামির প্রতি 'ভিআইপি' আচরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এমন এক ঘৃণ্য অপরাধের পর কীভাবে তিনি আলাদা সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন এই নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বন্দি অবস্থায় জেলের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যোগাযোগের অনুমোদিত মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) অথবা নির্ধারিত ভিডিয়ো -কলিং ব্যবস্থা। কিন্তু সেই সব নিয়ম ও নজরদারি এড়িয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেই কী বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়?