সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে প্রথমবার লোকসভায় এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভে পড়ুয়াদের উপর পুলিশকে ছর্রা গুলি, লাঠি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রশ্ন তুলে সংসদে শাহের বিবৃতি দাবি করতে শুরু করেন বিরোধীরা। এদিকে সংসদ ভবনে নিজের অফিসে থাকলেও এই প্রথম লোকসভার বাদল অধিবেশনে যোগ দেন শাহ, যা নিয়ে অসন্তোষ ছিলই। রাহুল পালাচ্ছেন' থেকে 'অমিত শাহ জবাব দিন' -সংসদের দুই কক্ষের ভিতরে ও বাইরে বিজেপি ও ইন্ডি ব্লকের বিক্ষোভের জেরে শুরুতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে গেল বাদল অধিবেশন ।
এই প্রথম, বৃহস্পতিবার বন্দে মাতরম গাওয়া দিয়ে লোকসভার অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবক গাওয়া শেষ হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দেন। ফলে শাহ লোকসভায় এলেও ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে আলোচনা বা কোনরকম বিতর্ক অধিবেশনের শেষ দিনেও অধরা থেকে গেল।
প্রসঙ্গত, অধিবেশন শুরুর আগে এদিন সকালে সংসদ চত্বরে, মকর দ্বারের সামনে শাসক এবং বিরোধী সাংসদদের মধ্যে স্লোগান-যুদ্ধ শুরু হয়। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে। সেই সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয় তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলিও। চুপ থাকেনা গেরুয়া শিবিরও। পাল্টা ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে লাঠি চালানোর প্রতিবাদে রাহুল এবং বিরোধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এনডিএ-র সাংসদেরা।
উল্লেখ্য, ছাত্র আন্দোলনে কার নির্দেশে পুলিশ লাঠি ও পেলেট গান চালিয়েছে, এই নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে আসছে বিরোধীরা। শাহ যদিও জানিয়েছেন, একটি বিবৃতি দিয়ে ওই আন্দোলনের ব্যাপ্তি বোঝানো কার্যত অসম্ভব। এই নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু সেই আলোচনা হচ্ছে কোথায়? সংসদের শেষ দু’দিনে ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বুধবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেন শাহ। অধিবেশন উঠে যাওয়ার শেষে কেন ওই চিঠি, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। তবে কী আগে থেকেই মুলতুবি হওয়ার বিষয়টি মাথায় ছিল, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে।
গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের ফলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। কিন্তু তারপরেও শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় ছিল বিরোধী দলগুলি। যদিও আজকের ঘটনা একদিকে যতটাই বিরক্তিকর নিঃসন্দেহে ঠিক ততটাই হাস্যকর বিষয় হয়ে উঠেছে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
















