নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়ে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আত্মহত্যাকারী ছাত্রছাত্রীদের ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজিও হয়েছে। কিন্তু তারপরেও কমেনি শোকের যন্ত্রণা। ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন আত্মঘাতী ছাত্রীর মা নীলম চতুর্বেদী। প্রশ্নফাঁস-পরীক্ষা বাতিলের জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আকাঙ্ক্ষা। আকাঙ্ক্ষার মায়ের স্পষ্ট দাবি, মন্ত্রীর ইস্তফায় লাভের কিছু নেই, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।

মূলত মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চতুর্বেদী পরিবার। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতেই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে পাড়ি দিয়েছিল গোটা পরিবার। নাগপুরের একটি কোচিং ইনস্টিটিউটে ভরতি হয়ে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ১৮ বছরের তরুণী আকাঙ্ক্ষা। গত ৩ মে নিট পরীক্ষা দেওয়ার পর সে আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় সাড়ে ছ'শোর বেশি নম্বর পাওয়ার আশা ছিল তার।

কিন্তু এর পরেই প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও দেশজুড়ে বিতর্কের জেরে নিট পরীক্ষা বাতিল হয়। এই ঘটনায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে আকাঙ্ক্ষা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা এবং খাওয়া-দওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয় সে। গত ২০ মে ঘরের মধ্যে চরম সিদ্ধান্ত নেয় ওই পড়ুয়া। মৃত্যুর আগে মা-বাবাকে উদ্দেশ করে রেখে যাওয়া আকাঙ্ক্ষার সেই সুইসাইড নোটে লেখে, "তোমাদের বিশ্বাস ছিল যে আমি পড়াশোনা করব, ডাক্তার হব। কিন্তু আবার নিট দেওয়ার সাহস করতে পারলাম না। প্রথমবারেই ভালো নম্বর পেতে পারতাম। কিন্তু দ্বিতীয়বার পরীক্ষাটা কতটা ভালো দিতে পারব কোনও নিশ্চয়তা নেই। মা, বাবা আমি অত্যন্ত দুঃখিত। সবটা শেষ করে ফেললাম।"

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের শনিবারের পদত্যাগ প্রসঙ্গে নীলম ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। ইস্তফা দিলেই কি ঘটনার দায় এড়ানো যায়? ইস্তফা দিয়ে কী হবে? প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, যারা আমাদের মতো বহু পরিবারের স্বপ্ন শেষ করে দিল, তাদের যেন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।"